নিউজটেক নিউজরাজ্য

“শিশুদের আত্মহত্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।”- চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পেশ করল এনসিআরবি

নিজস্ব প্রতিবেদন: কয়েক বছর আগে পর্যন্ত আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যেত সাধারণত ১৮ বছর বয়সের ঊর্ধের ব্যক্তিদের মধ্যে । কিন্তু বর্তমানে সারা দেশজুড়ে দেখা যাচ্ছে যে আত্মহত্যার প্রবণতা আস্তে আস্তে বাড়ছে শিশুদের মধ্যেও । সাংঘাতিক ভাবে এই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ছে শিশুদের মধ্যে। জীবনের নানান ওঠাপড়ার মধ্যে খুব সহজেই সংযম এবং লড়াই করার ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে শিশুরা।

এতটুকু বয়সেই শুধুমাত্র পড়াশোনার চাপে বা প্রণয়ঘটিত কারণেও অনেক সময় শিশুদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন করেছে মনোবিদদের। মনোবিদরা শিশুদের বাবা-মাকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে শিশুদের প্রতিপালন করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো সারা দেশজুড়ে সমীক্ষার ভিত্তিতে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে যাতে তারা চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেছে।

আরও পড়ুন-“২০২১ সালে পাশ করা পড়ুয়ারা ইন্টারভিউয়ের জন্য আসবেন না।”- ব্যাঙ্ক বলল ছাপার ভুল।

তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেখা গিয়েছে সারাদেশে শিশুদের মধ্যে ছেলেদের থেকে বালিকাদের আত্মহত্যার সংখ্যাটা অত্যন্ত বেশি। এনসিআরবি’র প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী গত ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভারতে আত্মহত্যা করেছে মোট ২৪ হাজার ৫৬৮ জন শিশু। এদের মধ্যে ১৩ হাজার ৩২৫ জন হল বালিকা। জানা গিয়েছে সমগ্র দেশের মধ্যে মধ্যপ্রদেশে শিশু আত্মহত্যার সংখ্যা সর্বাধিক।

তারপরের স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।এনসিআরবি রিপোর্ট জারি করেছে যে মধ্যপ্রদেশে গত তিন বছরে আত্মহত্যা করেছে প্রায় ৩ হাজার ১১৫ জন শিশু। পশ্চিমবঙ্গে গত তিন বছরে আত্মহত্যা করেছে ২ হাজার ৮০২ জন শিশু। অর্থাৎ শিশুদের আত্মহত্যার নিরিখে সারা দেশে বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

আরও পড়ুন-তৃণমূলের দপ্তরে সরকারি ক্যাম্প বানিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার অভিযোগ উঠল ভাঙড়ে।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে অন্যতম রাজ্য মহারাষ্ট্র।এনসিআরবি তাদের সমীক্ষায় জানিয়েছে যে পরীক্ষায় ফেল হয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ব্যাপকভাবে। এই ঘটনায় আত্মহত্যা করেছে প্রায় ৪ হাজারের‌ও বেশী শিশু। এছাড়াও কম বয়সে বিয়ে দেওয়া ৬৩৯ জন শিশু আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

এদের মধ্যে ৪১১ জন হল নাবালিকা। এছাড়াও অল্প বয়সেই প্রণয়ঘটিত কারণে অথবা শারীরিক যৌন নিগ্রহের শিকার হয়ে নিজের প্রাণ শেষ করে দিচ্ছে অনেকেই।বিশেষ করে অনেক পরিবারে দেখা গেছে বাবা-মায়েরা জোরপূর্বক তাদের দাবি-দাওয়া চাপিয়ে দেন শিশুদের উপরে। ‌ শিশুরা ভবিষ্যতে কি হতে চায় অথবা তাদের কি নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছা সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা এই সমস্ত কিছু এড়িয়ে চলতে চান বেশকিছু অভিভাবক, তার পরিবর্তে তারা নিজেরা তাদের শিশুকে কি বানাতে চান সেই বিষয়টি জোর করে চাপিয়ে দেয় তাদের একরত্তি শিশুকে।

আরও পড়ুন-এবার ভোটার কার্ডের সাথে আধার কার্ডের সংযুক্তিকরণের পথে এগোতে চলেছে কেন্দ্র।

যার ফলে ফুলের কুঁড়ি অকালেই ঝরে যায়। ‌ ভালোভাবে পৃথিবী কে বোঝার আগেই সমাজের বাস্তবে কঠিন পরিস্থিতি বোঝার আগেই অসংখ্য ফুল নিজেরাই অকালে ঝরে যায়। ‌ তাই সমাজের বহু বিদ্বজনেরা অভিভাবকদের বলছেন , ছোট থেকেই শিশুদের ভালো ভাবে বোঝান এবং তাদের মন বুঝতে চেষ্টা করুন। শিশুদের সাথে মিশে দেখুন তারা ভবিষ্যতে কি হতে চায়। ‌

নিজেদের ইচ্ছা তাদের উপর জোর করে চাপিয়ে সমাজে মেকী নাম কেনার কোনো প্রয়োজন নেই।

Related Articles

Back to top button