নিউজ

“উপর থেকে জ্ঞান ধাবিত হবে নীচে, এমন গণতন্ত্র আমরা চাই না”- মন্তব্য অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

নিজস্ব প্রতিবেদন: ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের এই সুবর্ণ অবসরে অনেক কথাই বলেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, “স্বাধীনতা দিবসের আগেই ভারতীয়রা ছিল দুর্ভিক্ষ, অনাহার, দারিদ্র, অত্যাচার, অবিচারে জর্জরিত। মহিলাদের মধ্যে বড়োজোর ১০% স্বাক্ষর ছিলেন। স্বাধীনতার সময় কেউ কল্পনা করতে পারেননি যে সমাজে অথবা কর্মক্ষেত্রে দলিতরা এবং মহিলারা জায়গা করে নিতে পারবেন।

আজ বিভিন্ন জায়গায় শীর্ষ পদে আসীন হয়েছেন দলিতরা এবং মহিলারা। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, সামাজিক ক্ষেত্রে এবং কর্মক্ষেত্রে আজ মহিলারা শীর্ষ পদে আসীন হয়েছেন। ৭৫ বছরের ভারতবর্ষের তুলনায় বর্তমানে ভারতবর্ষ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু সমাজে এখনও নানান বৈষম্য জারি হয়েছে। সংরক্ষন না থাকলে কি হতে পারে উত্তর ভারতের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে সেটা প্রতীয়মান হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন –“মানুষ আমাকে অভিনেত্রী হিসেবেই দেখতে চাইছেন, তাই রাজনীতি নিয়ে আর কিছু ভাবছি না”- মন্তব্য অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের।

তাই বর্তমানে সংরক্ষণ অবশ্যই দরকার। এই সংরক্ষণ এর ফলে বিজেপি নেতারা নিম্নবর্গীয়দের আসন ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনো পর্যন্ত সংসদে মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়া হয়নি। সংরক্ষণ করা না হলে যারা উচ্চবর্ণ তারাই ভবিষ্যতে সমৃদ্ধ হতে পারেন, কিন্তু একজন নিম্নবর্গ মানুষের একই কার্যক্ষমতা এবং বুদ্ধি নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও তারা তাদের পেশাগত জীবনে পিছিয়ে পড়তে থাকেন এবং সামাজিক জীবনে পিছিয়ে পড়তে থাকেন। তবে সময় এর অনেক সমস্যা রয়েছে।

যেমন সংরক্ষণের দ্বারা কে গরিব আর কে ধনী সেটা বিশ্লেষণ করা যায় না। আজকের দিনে দেখা গিয়েছে তরুণ-তরুণীরা জাত ধর্মের বিষয়টি মাথায় রেখে বিয়ে করছেন। কিন্তু আবার অন্যদিকে দেখা গিয়েছে দলিত মহিলাদের রান্না করা খাবার উচ্চবর্ণের ছেলেমেয়েরাও সাগ্রহে খেয়ে নিচ্ছে কিন্তু তবুও এখনো জাত- ধর্মের বিষয়টি নিয়ে বহু লোকের আপত্তি রয়ে গিয়েছে।”

আরও পড়ুন –কড়া করোনা বিধি মেনে রেড রোডে পালিত হতে চলেছে স্বাধীনতা দিবস

এছাড়াও অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন যে, “যদি সমস্ত জ্ঞান উপর থেকে নিচের দিকে ধাবিত হয় তাহলে সমাজের পক্ষে তা কখনোই কল্যাণকর হয় না। আগামী ২৫ বছর এমন উন্নতি আনতে হবে যাতে দেশের সকল এর উন্নতির সাথে সাথে সার্বিক দেশের উন্নতি হয়। একটা ধারণা চালু রয়েছে যে জিডিপি বৃদ্ধি হলে সকলের উন্নতি হবে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত একটি বিষয়। পেট্রোল-ডিজেলের শেষ বসানো হচ্ছে এটা সকলের কাছে অত্যন্ত সঙ্কটজনক। কিন্তু সম্পত্তি কর বসানো হবে এমন বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে না। আমরা মুখে সাম্যের কথা বললেও কাজে সেটা দেখাই না।”

Related Articles

Back to top button