শীতলকুচির জোরপাটকিতে আজ কালাদিবস পালন গ্রামবাসীদের;শহীদ বেদী নির্মাণের পাশাপাশি বের করা হবে মিছিল!

শীতলকুচির জোরপাটকিতে আজ কালাদিবস পালন গ্রামবাসীদের;শহীদ বেদী নির্মাণের পাশাপাশি বের করা হবে মিছিল!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-নির্বাচনের প্রতিটি দফার ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই গতকালের ভোট শুরু হওয়ার সময় থেকেই অনেকগুলি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। সবথেকে বেশি অস্থির পরিস্থিতির লক্ষ্য করা গিয়েছে কোচবিহার এবং হাওড়া, হুগলি জেলাগুলিতে।গতকাল দফায় দফায় অশান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি হঠাৎ করেই কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা এলাকার জোরপাটকিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে কেরল থেকে বাংলায় ভোট দিতে আসা ৪ যুবকের মৃত্যু হয়।

যদিও এই ঘটনায় গ্রামবাসীদেরকে দায়ী করেছে বাহিনীর জওয়ানরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি অনুসারে, বাসিন্দাদের সাথে বচসা সৃষ্টি হলে একসাথে ৩০০—৪০০ জন মিলে তাদের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এমতাবস্থায় আর কোন উপায় না দেখে গুলি চালাতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। তখনই ওই চার যুবকের মৃত্যু ঘটে।রক্তস্নাত অবস্থায় ওই যুবকদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাদেরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। চতুর্থ দফার ভোটের প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনরকম ভাবে বিরোধিতা করলে তাদের ঘেরাও করতে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কমিশনের তরফ থেকে নোটিশ পর্যন্ত পাঠানো হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই গতকাল শীতলকুচির ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও একথা মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস।কারণ স্থানীয় গ্রামবাসী সহ তৃণমূল নেতাদের দাবি বিজেপির দ্বারাই পরিকল্পনামাফিক এই চক্রান্ত সৃষ্টি করা হয়েছে।এমনকি স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত অমিত শাহকে এই ঘটনায় দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করেন।

আরও পড়ুন-‘মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করার অভ্যাস মমতার অনেক পুরনো’; মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান!

যদিও বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান,দিলীপ ঘোষ সহ আরো অনেকেই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই পরিস্থিতিতে আজ কোচবিহারের জোরপাটকিতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের উদ্যোগে ওই যুবকদের স্মরণে কালাদিবস এবং শোকমিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।ওয়াকিবহাল সূত্রের খবর অনুযায়ী, আজ রবিবার স্থানীয় অঞ্চল জুড়ে গ্রামবাসীরা কালা দিবস পালন করবেন। গ্রামে পতাকা নিয়ে শোক মিছিল করার পাশাপাশি মৃতদের উদ্দেশ্যে শহীদ বেদীও গড়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় জওয়ানদের শাস্তির দাবি করেছে মৃতদের পরিবারবর্গ সহ গ্রামবাসীদের একাংশ। আপাতত আগামী ৭২ ঘণ্টা কোচবিহারে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের প্রবেশ এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তার কারণ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আগমনের ফলে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।

ঘটনা সম্পূর্ণ রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে নির্বাচন কমিশনের তরফে।প্রসঙ্গত চতুর্থ দফার ভোটে হিংসাত্মক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পঞ্চম দফার ভোটের প্রচার এর ক্ষেত্রেও কাটছাট করেছে নির্বাচন কমিশন। পঞ্চম দফার ভোট শুরুর ৭২ ঘন্টা আগেই প্রচার বন্ধ করে দিতে হবে বাংলার রাজনৈতিক দলগুলিকে ,এমনটাই জানানো হয়েছে কমিশনের তরফ থেকে।