মর্মান্তিক চিত্র সোনারপুরে। ১৪ ঘন্টা করোনায় আক্রান্ত ব্যাক্তির মৃতদেহ পড়ে বাড়িতে।

মর্মান্তিক চিত্র সোনারপুরে। ১৪ ঘন্টা করোনায় আক্রান্ত ব্যাক্তির মৃতদেহ পড়ে বাড়িতে।

নিজস্ব প্রতিবেদন: সারা দেশ জুড়ে প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সারাদেশব্যাপী এক ভয়াবহ মৃত্যুর আতঙ্কের সূচনা হয়েছে। সারা দেশের মধ্যে এই মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে অগুনতি মানুষের। মহারাষ্ট্রের অবস্থা সবথেকে শোচনীয়। মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতে জারি হয়েছে সাময়িক লকডাউন। দিল্লি সহ লক্ষ্ণৌ, পশ্চিমবঙ্গের অবস্থাও যথেষ্ট শোচনীয়।

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৭৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৮৩৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।  গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ২ হাজার ২৬৩ জন।কলকাতার অবস্থাও খুবই ভয়াবহ। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে নির্দিষ্ট জায়গায় করোনা আক্রান্তদের মৃতদেহ পোড়ানো হচ্ছে। ধাপায় পরপর পোড়ানো হচ্ছে আক্রান্তদের দেহ।

আরও পড়ুন-“বাংলা দখল করার নাম করে বাংলাকে অত্যন্ত সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে বিজেপি।”- মুখ্যমন্ত্রী আক্রমণ করলেন বিজেপিকে

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টে থেকে ৪ টের মধ্যে পরপর ২০ জন করোনা রোগীর মৃতদেহ এসেছে ধাপায়। পরপর শায়িত এই মৃতদেহগুলি দেখে আঁতকে উঠেছেন সৎকারকারীরাও। করোনায় মৃত রোগীদের সৎকার করতে অনেকক্ষেত্রে তাঁর বাড়ির লোক‌ই আসছেন না, বেওয়ারিশ লাশ হিসাবে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মৃতদেহগুলো।এই পরিস্থিতি অত্যন্ত অমানবিক একটি ঘটনা ঘটেছে সোনারপুরে।

গতকাল রাত ১ টা নাগাদ মৃত্যু ঘটে সোনারপুরের করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তির। ওই ব্যক্তির ছেলে অভিযোগ করেছেন যে, গত ১৭ ই এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হন তাঁর বাবা, কিন্তু বহু হাসপাতালে ঘুরেও বেড পাননি ওই অসহায় ব্যাক্তি। অবশেষে অক্সিজেন না মেলায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই ব্যাক্তি। কিন্তু তার পরেও সরকারের বিভিন্ন বিভাগে ফোন করলেও ওই ব্যক্তির মৃতদেহ নিতে আসেনি পুরসভা। যার দরুন বাড়িতেই প্রায় ১৪ ঘন্টা ধরে পড়ে থাকে ওই আক্রান্ত ব্যাক্তির নিথর দেহ। অত্যন্ত অমানবিক এই ঘটনাটিকে অনেকেই রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি ক্ষোভে সোচ্চার হয়েছেন।