সুশান্তকে নিয়ে এবার মুখ খুললেন সুশান্তের সাথে একসাথে অভিনয় করা টলি অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়

সুশান্তের শেষ ছবি ‘দিল বেচারা’ গত ২৪ শে জুলাই রিলিজ হয়েছে। এই ছবিটির মুক্তি দেখা হল না তাঁর। এটি ছিলো তাঁর ১২ নাম্বার ছবি। এই সিনেমায় সুশান্তের বিপরীতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সঞ্জনা সাংঘী। পরিচালক মুকেশ ছাবরার প্রথম সিনেমা এটি। সুশান্ত অভিনয় করছেন ম্যানির চরিত্রে এবং সঞ্জনা অভিনয় করছেন কিজির চরিত্রে।

ক্যান্সার আক্রান্ত কিজিকে কিভাবে জীবনে এগিয়ে চলার পথে সাহায্য করবে ম্যানি, এবং তাঁদের প্রেমের মিষ্টি রসায়ন নিয়েই এই সিনেমা।লকডাউনের কারণেই এই ছবি বড়োপর্দায় মুক্তি পাচ্ছেনা। সুশান্তের প্রতি অন্তিম শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর সম্মানের উদ্দেশ্যে এই সিনেমা দেখিয়েছে ডিজনি-হটস্টার। Internet Movie Database (IMDb) তে সর্বকালীন রেকর্ড ভে-ঙে দিয়েছে সুশান্তের ‘দিল বেচারা’। মুক্তি পাওয়ার মাত্র তিন ঘন্টার মধ্যেই এরকম রেটিং আজ পর্যন্ত কোনো সিনেমাই পায়নি।

আরও পড়ুন –মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

দিল বেচারা রেটিং পেয়েছে ১০/১০ । কিন্তু তার পরে এই রেটিং কমে হয়েছে ৯.৮। এই সিনেমার নায়িকা সঞ্জনা সাঙ্ঘী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ইমোশনাল পোস্ট দিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি একটি ছবি পোস্ট করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে দিল বেচারা সিনেমার শুটিং এর ফাঁকে নিশ্চিন্তে সঞ্জনার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছেন সুশান্ত। এই ছবি পোস্ট করে সঞ্জনা লিখেছেন যে, “ম্যানি তারে গিন সিনেমার রাতের একটি দৃশ্যের শুটিং এর সময় পাওয়ার ন্যাপ নিচ্ছে, কিজি তার কাঁধ এগিয়ে দিয়েছে। সে যেন সর্বদা চিন্তার মধ্যে হারিয়ে ছিলো।”

আরও পড়ুন – নিজের মেয়েদের দিয়ে লাঙ্গল টানছিলেন বৃদ্ধ, খবর পেয়ে ট্রাক্টর পাঠালেন সোনু সুদ

এবার কিজি বাসুর পিতার চরিত্রে অভিনয় করা শ্বাশ্বত‌ চট্টোপাধ্যায় সুশান্তের সাথে দিল‌ বেচারা সিনেমার শুটিং এর সময়ে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করলেন। তিনি বলেছেন, “সুশান্ত একটা বলিউডের নামী শিল্পী হলেও উনি ছিলেন মাটির মানুষ। প্রায়শ‌ই শুটিং এর ফাঁকে গল্প গুজব হলে ধপাস করে ও মেঝেতে বসে পড়তো। আবার কখনো কখনো আমাকে জড়িয়ে ধরতো। বাচ্চাসুলভ স্বভাব ছিলো ওর।

আরও পড়ুন –হট প্যান্ট পরে নায়িকার শীর্ষাসন, ভাইরাল বিশেষ শরীরচর্চার ভিডিও

শুটিং এর ফাঁকে আবার স্পটবয় সহ অন্যান্য ছেলেদের নিয়ে ক্রিকেট খেলতেও শুরু করে দিয়েছিলো। আবার ওই সময় স্বস্তিকা ক্রিকেট খেলতে বারণ করায় শিশুদের মতো তার কাছে ঘ্যান ঘ্যান করে আবার খেলার পারমিশন আদায় করে ছেড়েছিলো। ওর গাড়িতে একগাদা ব‌ই ঠাসা থাকতো। খুবই শিক্ষিত ছিলো ছেলেটা। কিন্তু বলিউডের কেউ ওর মর্যাদা দিলো না। সুন্দর নাচতে পারতো ও।

সিনেমার শুটিং এর সময় নিখুঁত স্টেপে এক শটেই কমপ্লিট করে দিতো পুরো নাচের স্টেপগুলো। অসামান্য প্রতিভাশালী ছিলো ও।” বলতে বলতে গলা ধরে এলো শাশ্বত’র। বোধহয় সুশান্তের স্মৃতিতে ডুব দিলেন শাশ্বত। শাশ্বত বারবার‌ বলেছেন যে সত্যিই সুশান্তের মনে অহংকারের লেশমাত্র ছিলো না।সত্যিই সুশান্তের গুণের কদর করেনি বলিউড। যদি কদর করতো তাহলে হারিয়ে যেতে হতনা তাঁকে অন্ধকারে। অসীম গুণের সঞ্চার ঘটেছিলো এই মানুষটার মধ্যে।

এখানে আপনার মতামত জানান