এটিএম জালিয়াতির মামলায় ভিনরাজ্যে পাড়ি কলকাতা পুলিশের তিনটি দলের।

এটিএম জালিয়াতির মামলায় ভিনরাজ্যে পাড়ি কলকাতা পুলিশের তিনটি দলের।

নিজস্ব প্রতিবেদন: গত মঙ্গলবার কলকাতার বুকে ঘটে গিয়েছে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনা । উন্নত প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কলকাতার বিভিন্ন এটিএম থেকে লুঠ হয়েছে কোটি কোটি টাকা। এই ঘটনায় কার্যত হতভম্ব কলকাতা পুলিশের তাবড় তাবড় সাইবার বিশেষজ্ঞ রাও।
জানা গিয়েছে তুখোড় প্রযুক্তি সম্পন্ন একদল জালিয়াত এই ঘটনার সাথে যুক্ত রয়েছে।

গোয়েন্দারা এই এটিএম অ্যাটাককে হাইলি সোফিস্টিকেটেড অ্যাটাক বলে অভিহিত করেছেন। এমনভাবেই টাকা লুঠ করা হয়েছে যে এটিএমের গায়ে একটুও চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যার ফলে কোনো তথ্যপ্রমাণ হাতে আসেনি ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দের। জালিয়াত দের কাছে এমনই উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে যার সাহায্যে তারা এটিএমে ব্যবহৃত ব্যাঙ্কের সফট‌ওয়্যারকে অকেজো করে দিয়ে সমস্ত টাকা লুঠ করে নিয়েছে। এটিএমের ল্যান কেবল অর্থাৎ লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক কেবলের সাথে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে এক বিশেষ ধরনের যন্ত্র।

আরও পড়ুন-“অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের পুনর্নিয়োগের বাধ্যতামূলক হবে ভিজিল্যান্সের ছাড়পত্র।”- জারি হল নির্দেশিকা।

তারপরেই এটিএমের ডিসপ্লের উপরের হুড খুলে গায়েব করা হয়েছে টাকা। সফট‌ওয়্যার অকেজো থাকায় এটিএম থেকে টাকা বেরিয়ে যাওয়ার কোনোরকম তথ্য এসে পৌঁছায়নি ব্যাঙ্কে।করোনার এই লকডাউনে কার্যত নিরাপত্তা বিহীন ১০ টি এটিএম থেকে লুঠ হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। কলকাতার বেহালা থেকে শুরু করে নিউমার্কেট, বেনিয়াপুকুর, ফুলবাগান, কাশীপুর, ব‌উবাজার, যাদবপুরের বেশ কয়েকটি এটিএমে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন-দেখুন আধার কার্ডে কিভাবে বদলাবেন আপনার ছবি?

ইতিমধ্যেই এক‌ই ধরণের ঘটনায় ফরিদাবাদে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যে এই চুরির সাথে ফরিদাবাদের কোনো চক্র যুক্ত রয়েছে কি না।তবে এটিএম প্রতারণায় পুলিশের হাতে সিসিটিভি ফুটেজ এসে গিয়েছে যা দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু টুপি এবং মাস্ক পরে থাকায় অভিযুক্তদের সঠিক ভাবে চেনা যাচ্ছে না। পুলিশের অনুমান যে এই প্রযুক্তিতে তুখোড় চোরেরা ইতিমধ্যেই বাইরের রাজ্যে পালিয়েছে।

আরও পড়ুন-‘জয় শ্রী রাম’ লেখা মাস্ক বিলি করার দায়ে ১৯ জনকে গ্রেফতার করলো পুলিশ,শুরু রাজনৈতিক তরজা!

তাই তাদের ধরতে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছে কলকাতা পুলিশের তিনটি দল। অপরাধীরা কোন হোটেল অথবা গেস্ট হাউসে আশ্রয় নিয়েছিল সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ জোগাড় করার চেষ্টা চলছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ সহ অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে এই রহস্যের কিনারা করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।