এবার বেসুরো হয়ে উঠলেন সিপিএম থেকে পদ্মফুলে আসা রিঙ্কু নস্কর।

এবার বেসুরো হয়ে উঠলেন সিপিএম থেকে পদ্মফুলে আসা রিঙ্কু নস্কর।

নিজস্ব প্রতিবেদন: একুশের ভোটে রাজ্যে পালাবদলের একটা বিরাট হাওয়া উঠেছিল। পোড়-খাওয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও ভেবেছিলেন রাজ্যে এবারে শেষ হতে চলেছে তৃণমূল জমানা । চারিদিকে পদ্মফুল প্রস্ফুটিত হওয়ার একটা আভাস উঠেছিল। যার জন্য তৃণমূলের সাথে থাকা বেশ কিছু তাবড় তাবড় নেতা-নেত্রীরা তৃণমূলের সাথে সমস্ত সম্পর্ক শেষ করে দলে দলে নাম লিখিয়েছিলেন পদ্মফুলে।

বিধানসভা ভোটের আগে কার্যত ভাঙ্গন দেখা গিয়েছিল তৃণমূলে। কিন্তু এই ভাঙ্গনে বিচলিত হননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একুশের ভোটে কেন্দ্রীয় নেতারা বাংলার মাটিতে বারবার ছুটে এসেছিলেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত বেশ কয়েকবার বাংলার মাটিতে জনসভা করেছিলেন।

আরও পড়ুন-নন্দীগ্রাম মামলার রায় সুরক্ষিত রাখলো কলকাতা হাইকোর্ট

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলতে গেলে বাংলাতেই থাকছিলেন। তাদের মুখে শ্লোগান ছিলো , ‘ইস বার দোশো পার’। এছাড়াও আরও নানান কেন্দ্রীয় নেতা নেত্রীরা বাংলার মাটিতে জনসভা, রোড শোতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত আকার ধারণ করল গত ২ রা মে’র ভোটের ফলাফলে।

একা এক মহিলা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রীরা। আর তার পরেই তৃণমূলে ফেরার জন্য লাইন দিয়ে দিলেন দলবদলু নেতা নেত্রীরা যারা সুনিশ্চিত রাজনৈতিক কেরিয়ার তৈরি করার জন্য বিজেপির ছত্রছায়ায় গিয়েছিলেন। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই অন্যতম দলবদলু নেতা মুকুল রায় প্রত্যাবর্তন করেছেন তাঁর বহুদিনের পুরনো সংসার তৃণমূলে। মুকুল রায়ের পরেই একে একে বহু দলবদলু নেতারা তৃণমূল ফিরতে চাইছেন।

আরও পড়ুন-এবার রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করলেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। প্রকাশ্যে এলো শিবসেনা-বিজেপি দ্বিমত।

ঠিক এরকমই এবার বাম থেকে রামে আসা এক নেত্রী পদ্মফুল শিবিরে বেসুরো হয়ে উঠেছেন।তিনি হলেন রিঙ্কু নস্কর। বিধায়ক হওয়ার আশা নিয়ে তিনি একুশের ভোটের আগে সিপিএম থেকে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন। কিন্তু তার বিধায়ক হওয়ার স্বপ্ন ধূলিস্মাৎ হয়েছে ।

তিনি যাদবপুরে তৃণমূল প্রার্থী মলয় মজুমদারের কাছে ৪৪ হাজারের‌ও বেশী ভোটে পরাজিত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমার ওয়ার্ড অফিস দখল করা হয়েছে। যারা আমার পাশে ছিল তারা আতঙ্কে ঘরছাড়া। শুভেন্দু অধিকারী অথবা দিলীপ ঘোষ অথবা রাজ্য স্তরের কোনো নেতাই আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করছেন না।

আরও পড়ুন-মুকুল প্রসঙ্গে দ্বিমত বিজেপির অন্দরে। শুভেন্দু দিলীপের গলায় ভিন্ন সুর।

কার্যত গৃহবন্দী থাকতে হচ্ছে আমাকে। এই অবস্থায় একমাত্র আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন ডাঃ সুভাষ সরকার। বাকি আর কেউ খোঁজ খবর নিচ্ছেন না।”হঠাৎ তাঁর এই অভিযোগে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে যে বিজেপিতে তিনি থাকবেন নাকি তিনিও পা বাড়াবেন ঘাস ফুলের দিকে !