নিউজপলিটিক্সরাজ্য

ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ জানাতে সল্টলেকের মানবাধিকার কমিশনের শিবিরে পড়লো লম্বা লাইন।

নিজস্ব প্রতিবেদন: গণতন্ত্রের অন্যতম ভোট উৎসবে মানুষ দলে দলে শামিল হয় নিজেদের ভবিষ্যৎ কে আরো উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে। মানুষ এই ভোটে অংশগ্রহণ করেন তাদের পছন্দের নেতা বা নেত্রী নির্বাচনের জন্য যারা তাদের আগামী দিনগুলোতে আরো সমৃদ্ধির পথ দেখাতে পারেন। সেরকমই একুশের বিধানসভা ভোটে বাংলার মানুষ তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। ‌ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে বারবার বলে আসছেন যে তিনি বাংলায় কোনরকম অশান্তি সহ্য করবেন না, উল্টোদিকে বাংলার মাটিতেই বিভিন্ন জায়গায় হিংসা হানাহানির আগুন জ্বলছে ।‌

বেশিরভাগ জায়গাতেই তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের অত্যন্ত মারধর করার, তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করার, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি থেকে প্রাণ ভয়ে অসমে পালিয়ে গিয়েছেন কয়েক হাজার হিন্দু বিজেপি সমর্থক , এমনটাই দাবি করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা। বাংলা এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেকেই দাবি তুলেছেন যে অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হোক। বহু জায়গা থেকে অভিযোগ উঠেছে যে শুধুমাত্র বেছে বেছে বিজেপির হিন্দু সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজন।

আরও পড়ুন-“টিকা পেতে গেলে রাজ্য সরকারের ত্রাণ তহবিলে দিতে হবে চাঁদা”- এমন‌ই নাকি ফরমান জারি প্রশাসনের । জেনে নিন সত্য

এই পরিস্থিতিতে মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলছেন। ‌ সল্টলেকের মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে একটি শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল । বলা হয়েছিল এই শিবিরে মানুষ নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারবেন ভোট-পরবর্তী হিংসার পরিপ্রেক্ষিতে। আজ সকাল আটটা থেকে সল্টলেকের সিআরপিএফ ক্যাম্পে মানবাধিকার কমিশনের আধিকারিকরা মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য বসেছেন।

আরও পড়ুন-এবার নরেন্দ্র মোদী এবং দিলীপ ঘোষের পাশেই সমান জায়গা পাবেন শুভেন্দু অধিকারী।

আর এখানেই দেখা গেলো রীতিমতো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে দাবী করছেন বাংলায় কোনোরকম অশান্তির পরিবেশ নেই, সেখানে আজ মানবাধিকার কমিশনের কাছে ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার বহু মানুষ কাতারে কাতারে লাইন দিয়েছেন সকাল থেকেই। এই বিশাল লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষেরা। দাঁড়িয়ে রয়েছেন বৃদ্ধ, বৃদ্ধারা, শিশু কোলে মায়েরা সহ অনেকেই।

তাঁরা সকলেই অভিযোগ করেছেন যে জেলাগুলিতে বিরোধী দলে নাম লেখানোর অপরাধে তাদের উপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। তাদের বাড়িছাড়া করা হয়েছে। সকলেই এই শিবিরে মানবাধিকার কমিশনের আধিকারিকদের থেকে সুবিচার চাইছেন।

Related Articles

Back to top button