নিউজপলিটিক্সরাজ্য

“রাজ্য জমি দিতে পারেনি, আর কেন্দ্রকে দোষ দিচ্ছে।”- মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করলেন দিলীপ ঘোষ।

নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা পরিস্থিতিতে ডিভিসিকে দোষারোপ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা তাঁর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে অভিযোগ জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের উত্তর দিয়েছে ডিভিসি। ডিভিসি জানিয়েছে যে,”শুধুমাত্র জল ছাড়ার কারণে এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।

টানা বৃষ্টির ফলে দক্ষিণবঙ্গের নদীগুলিতে ব্যাপক জলের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি মাইথন, পাঞ্চেত জলাধারে ড্রেজিংয়ের দরকার বলে জানিয়েছে ডিভিসি। এছাড়াও ডিভিসি জানিয়েছে জল ছাড়তে হবে কতটা পরিমাণে সেটা ঠিক করে ডিভিসির একটি কমিটি। এই কমিটিই জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।”

আরও পড়ুন-কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে যন্তর মন্তরে কৃষকদের পাশে উপস্থিত হচ্ছেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়রা

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রীকে পাল্টা চিঠি লিখেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।এছাড়াও এবার এই পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্য জমি দিতে পারে নি বলেই বন্যা প্রতিরোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার।দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “কলকাতা, উত্তরবঙ্গের মাটিতে বন্যা হলে মোদীকে দোষারোপ করছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাহলে তিনি গত ১০ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে কি করেছেন? বিভিন্ন সেচ প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার টাকা পাঠিয়ে ছিল। কিন্তু এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করার জন্য রাজ্য সরকার জমি দিতে পারেনি যার ফলে সেই টাকা কেন্দ্রে ফেরত চলে গিয়েছে। তিস্তা প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ১৭০০ কোটি টাকা দিয়েছিল এছাড়াও তারকেশ্বর-গন্ধেশ্বরী প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা দিয়ে রেখেছে কেন্দ্র কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করার জন্য জমি দিতে পারেনি রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন-“ডিভিসির স্টেকহোল্ডার হল রাজ্য‌ও।”- মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

এছাড়াও আয়লার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছিল কেন্দ্র যা ফেরত চলে গেছে। তিস্তা প্রকল্পের জন্য ১৭০০ কোটি টাকা দিয়েছিলো কেন্দ্রীয় সরকার। এছাড়াও গত ২০১৭ সালে দামোদর নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বাংলাকে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও এআইআইবি এবং আইবিআরডি থেকেও পশ্চিমবঙ্গ কে ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিলো।

কিন্তু এত সাহায্য পাওয়ার পরেও বাংলার মাটিতে কোন কাজ হয়নি। আজ পশ্চিমবঙ্গ এই সমস্ত প্রকল্প গুলির জন্য জমি দিতে পারেনি আর বন্যা হলেই দোষারোপ করছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। মুখ্যমন্ত্রী আগে নিজের দায়িত্ব কি পালন করেছেন সেটা ভালোভাবে বিবেচনা করে দেখুন।”

Related Articles

Back to top button