“উগ্রবাদীদের নিশ্চিন্ত আস্তানা গড়ে উঠছে এই রাজ্যে।”- মালদার কালিয়াচকের ঘটনায় মন্তব্য করলেন দিলীপ ঘোষ।

“উগ্রবাদীদের নিশ্চিন্ত আস্তানা গড়ে উঠছে এই রাজ্যে।”- মালদার কালিয়াচকের ঘটনায় মন্তব্য করলেন দিলীপ ঘোষ।

নিজস্ব প্রতিবেদন: গত শনিবার মালদার কালিয়াচকে এক উনিশ বছরের তরুণকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে । ওই তরুণের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে সে তার বাবা , মা , বোন, ঠাকুমাকে মেরে বাড়ির লাগোয়া গোডাউনে পুঁতে রেখেছিলো। এই বীভৎস হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বাড়ির ছোটো ছেলে আসিফ মহম্মদ । এই হত্যাকান্ড সে ঘটিয়েছে চারমাস আগে।

তার দাদা প্রাণভয়ে পালিয়েছিলো‌ বলে জানিয়েছে। তারপরে বাড়ি ফিরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে গত শুক্রবার। তারপরেই ১৯ বছরের ওই যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করলে জেরায় সে নিজের কুকীর্তির কথা স্বীকার করে নেয়। এদিকে গত শনিবার রাতে আসিফকে জেরা করার পর তার দুই বন্ধু মোহাম্মদ মাহফুজ এবং সাবির আলি কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন-শুভেন্দু অধিকারীকে আবার দিল্লিতে তলব করল বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।

তাদের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে পাঁচটি সেভেন এম এম পিস্তল , ১০ টি ম্যাগাজিন এবং ৮৪ রাউন্ড গুলি। ধৃত তরুণেরা পুলিশকে জানিয়েছে যে মোটা টাকা দিয়ে ওই অস্ত্রগুলি তাদের কাছে রাখতে দিয়েছিলো আসিফ। আসিফের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অত্যাধুনিক উন্নত ইলেকট্রনিক গ্যাজেট। সে কেন এই অত্যাধুনিক যন্ত্র নিজের বাড়িতে বসিয়েছিলো তা তদন্ত করছে পুলিশ।

আরও পড়ুন-এবার রাঢ়বঙ্গ ভেঙে আলাদা রাজ্যের দাবী তুললেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।

জঙ্গী যোগের বিষয়টিও এক্ষেত্রে উঠে আসছে। ওই যন্ত্রগুলি পরীক্ষা করে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞ দের সাহায্য নিচ্ছে পুলিশ। অনলাইনে এই অত্যাধুনিক যন্ত্রগুলি কিনতো আসিফ। তার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কিছু দামী মোবাইল ফোন, ওয়াকি টকি, রাউটার, ল্যাপটপ সহ নানান অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি।

এমনকি এর মধ্যে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানেন‌ই না পুলিশ অফিসাররা। এই ঘটনায় জঙ্গি যোগের বিষয়টিও উত্থাপিত হয়েছে। আর এই কান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেছেন,”বর্তমানে গোটা রাজ্য উগ্রপন্থীদের নিশ্চিন্ত আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন-“অনেকেই পরিস্থিতির চাপে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন।”- রাজীব প্রসঙ্গে মন্তব্য দিলীপ ঘোষের

কিন্তু রাজ্য প্রশাসন সবকিছু জেনেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। উপরন্তু রাজ্যের শাসক দল উগ্রপন্থীদের প্রত্যক্ষ মদত যোগাচ্ছে। একবার ভেবে দেখবেন বাংলায় কেন বারবার দাঙ্গা হচ্ছে? শুধুমাত্র বাংলার বুকে হঠাৎ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে কেন?

বাংলাদেশ থেকে উগ্রপন্থীরা এই রাজ্যের পালিয়ে এসে নিশ্চিত আশ্রয় গ্রহণ করছেন। এর কারণ হলো এই উগ্রপন্থীরাই হল বর্তমান রাজ্য সরকারের ভোটব্যাঙ্ক।”দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো প্রত্যুত্তর দেয়নি তৃণমূল।