ডাকাত হাঁ করে সারদাদেবীর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখল পেছনে হাতে খড়্গ নিয়ে দাঁড়িয়ে মা কালী

একশো বছর আগের ঘটনা এটি। মা সারদাদেবীর সাথে মকরসংক্রান্তি উপলক্ষে কয়েকজন গ্রামবাসী কামারপুকুর থেকে কলকাতার অভিমুখে যাত্রা করলেন। কামারপুকুর থেকে তাঁরা যাত্রা শুরু করে দুপুরের মধ্যেই আরামবাগ পৌঁছে গিয়েছিলেন। সেখানে তেলোভেলোর মাঠটি ছিলো ডাকাতদের আড্ডা । কিন্তু দিনের আলো থাতে থাকতেই তাঁরা সদলবলে এগিয়ে যেতে থাকেন এই মাঠে। কিন্তু শ্রী মা ক্রমশ পিছিয়ে পড়েন।

তাঁর সঙ্গীরা অনেকদূর এগিয়ে যান। একসময় সন্ধ্যা নামে , কিন্তু মা এগিয়ে চলতে থাকেন পথ ধরে। হঠাৎ‌ই মায়ের সামনে এক কোঁকড়ানো চুলের দীর্ঘ চেহারার লাঠি নিয়ে মায়ের সামনে হাজির হয়। কর্কশ গলায় সে মা’কে বলে- “কোথায় যাচ্ছেন?” কিন্তু হঠাৎই তার ভয়ে গা হাত ঠান্ডা হয়ে যায়। সে দেখতে পায় মায়ের পিছনে খড়্গ হাতে দাঁড়িয়ে স্বয়ং মা কালী। দৃশ্যটি দেখে লোকটি বুঝতে পারে এই মহিলা সাধারণ কোনো মহিলা নন।

আরও পড়ুন – কলকাতা সহ চার জেলায় ধে‌য়ে আসছে প্রবল ঝ’ড়বৃষ্টি, আগামী 24 ঘণ্টার আবহাওয়া নিয়ে বড় আপডেট দিলো মৌসম ভবন

ওই লোকটি এবং তার স্ত্রী ছিলেন পেশায় ডাকাত। তাদের মা বলেছিলেন, “আমি তোমাদের‌ই মেয়ে, তোমাদের জামাই সেই দক্ষিণেশ্বরে রয়েছে। আমাকে তোমরা ওনার কাছে পৌঁছে দিও।“তাঁর এই পরম মমতাময়ী কথার স্পর্শে ওই ডাকাত দম্পতির মন ছুঁয়ে যায়। তাঁরা সেই রাতে মা’কে তাদের‌ই ঠিকানায় আশ্রয় দেয়। তারপরের দিনেই মায়ের সঙ্গীরা মা’কে ওই জায়গাতে খুঁজে পান।ওই ডাকাতের নাম ছিল সাগর সাঁতরা এবং তার স্ত্রীর নাম ছিলো মাতঙ্গিনী।

আরও পড়ুন –বড় ঘোষণা- কেবল পাঁচটি ব্যাঙ্ক সরকারি থাকবে, বাকি ব্যাঙ্ক হচ্ছে বেসরকারিকরণ

এই অদ্ভূত ঘটনার পরে সাগর এবং তাঁর স্ত্রী জীবনে কখনও ডাকাতি করেন নি। পরে তাঁরা বেশ অনেকবার‌ই দক্ষিণেশ্বরে গিয়েছিলেন এবং ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের আশীর্বাদ লাভ করেছিলেন। তাঁদের দুই ছেলে বিহারী ও মেহারী শ্রী শ্রী মায়ের নিকট মন্ত্রদীক্ষা লাভ করেছিলেন।কিন্তু হঠাৎ‌ই ১৯১০ সালে সাগর সাঁতরা বেলগাছ থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। সিঙ্গুরের কাছে তেলুয়া ও ভালিয়া যাদের সংক্ষেপে নাম হল তেলো এবং ভেলো , দুটি পাশাপাশি অবস্থিত গ্রাম।

আরও পড়ুন – বড় খবর- রাজ্যে সপ্তাহে দুদিন বন্ধ থাকবে হাট-বাজার থেকে অফিস-আদালত, বড় ঘোষণা রাজ্যের

এই দুই গ্রামের মধ্যবর্তী মাঠই তেলোভেলোর মাঠ বলে বিখ্যাত ছিলো। ভালিয়ার পাশ দিয়েই বাস রাস্তা রয়েছে আর এখানেই ডাকাত কালীর মন্দির রয়েছে। তবে জানা গিয়েছে যে এই মন্দির ডাকাতরা তৈরি করে নি। কিন্তু এখানে পূজো দিয়েই তারা ডাকাতির উদ্দেশ্যে বেরোতো। ওই ঘটনার পর থেকেই সাগর ডাকাতের সাথে এই ডাকাতকালী মন্দিরটিও বিখ্যাত হয়ে যায়।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষপ্রান্তে মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে বর্ধমানের রাজারা এই জায়গার জমি দান করছছিলেন। তৎকালীন সময়ে গ্ৰামের মোড়লরা স্বপ্নাদর্শে এই স্থানে মন্দির স্থাপন করেন। এখনও পর্যন্ত এই মন্দিরের দেবী মা’কে খুব জাগ্রত হিসাবে পূজা করা হয়। বর্তমানে শ্রীরামপুর-তারকেশ্বর ১২ নম্বর রোডের কাছে এই মন্দির অবস্থিত। তারকেশ্বর গামী পুণ্যার্থীরা বাবার মাথায় জল ঢালতে যাওয়ার পথে ডাকাতকালী মায়ের দর্শন করে যান। প্রতি বছর ঘটা করে ডাকাতকালী মায়ের পূজা সম্পন্ন করা হয়।

এখানে আপনার মতামত জানান