নিউজপলিটিক্সরাজ্য

রাজ্যে বন্যায় মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদন: গত কয়েকদিন ধরে বাংলার মাটিতে হাওড়া এবং হুগলির বেশ কিছু জায়গায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হাওড়ার আমতা, উদয়নারায়নপুর, এবং হুগলির অন্তর্গত গোঘাট , খানাকুলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই বন্যা বিধ্বস্ত অঞ্চলে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা মোতায়েন রয়েছেন। গতকাল ক্ষতিগ্রস্ত আমতা এবং উদয়নারায়নপুরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী উদয়নারায়নপুরের মাটি থেকে অভিযোগ করেছেন যে, “এই বন্যা সম্পূর্ণ ম্যান মেড বন্যা । আমি বারবার ডিভিসিকে অনুরোধ করেছিলাম যে রাজ্যকে না জানিয়ে যেন জল না ছাড়া হয়। কিন্তু ডিভিসি আমার কথা শোনেনি। আমাদের না জানিয়ে জল ছাড়ার ফলেই এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”

আরও পড়ুন-এবার ভোটার কার্ডের সাথে আধার কার্ডের সংযুক্তিকরণের পথে এগোতে চলেছে কেন্দ্র।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের উত্তর দিয়েছে ডিভিসি। ডিভিসি জানিয়েছে যে, শুধুমাত্র জল ছাড়ার কারণে এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। টানা বৃষ্টির ফলে দক্ষিণবঙ্গের নদীগুলিতে ব্যাপক জলের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি মাইথন, পাঞ্চেত জলাধারে ড্রেজিংয়ের দরকার বলে জানিয়েছে ডিভিসি।

এছাড়াও ডিভিসি জানিয়েছে জল ছাড়তে হবে কতটা পরিমাণে সেটা ঠিক করে ডিভিসির একটি কমিটি। এই কমিটিই জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ডিভিসি জানিয়েছে তারা একদিনে ১ লক্ষ ৪৬ হাজার কাউসেক জল ছেড়েছে। এখনো পর্যন্ত সাড়ে ৩ লক্ষ কিউসেক জল জলাধারে ধরে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন-মুখ্যমন্ত্রীর ফোন ! বাংলার বন্যা পরিস্থিতিতে মৃত এবং আহতদের আর্থিক সাহায্য প্রধানমন্ত্রীর।

এই আবহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই চিঠিতে তিনি লিখেছেন,”মাইথন, তেনুঘাট ব্যারেজ, এবং পাঞ্চেত ব্যারেজ থেকে ব্যাপক পরিমাণে জল ছাড়া হয়েছে। সেখান থেকে এর মধ্যেই ২ লাখ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে । যার ফলে এই ম্যান মেড বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ।

হাওড়া, হুগলি, বীরভূম এবং পূর্ব বর্ধমানের অনেকটাই অংশ প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই হাজার হাজার বিঘা চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। ‌ ডিভিসি প্রতিবছর পরিকল্পনাহীন জল ছেড়ে রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে চলেছে। ‌ বহুদিন ধরে ডিভিসি খালগুলোর কোনো সংস্কার করেনি।

আরও পড়ুন-এককালীন ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করুন। দুর্দান্ত স্কিম পোস্ট অফিসের।

তাই সামান্য জল ছাড়লেই রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। এখনো পর্যন্ত রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতিতে ২৩ জন মারা গিয়েছেন। রাজ্যে মোট ৩৬১ টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে।”

এরপরেই প্রধানমন্ত্রী গতকাল সন্ধ্যায় বাংলায় বন্যা পরিস্থিতির ফলে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই সাথে তিনি ঘোষনা করেছেন যে বন্যা বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে আহত ব্যক্তিদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ‌

Related Articles

Back to top button