নিউজপলিটিক্সরাজ্য

“জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এখন বিজেপির কমিশন”- অভিযোগ করল তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিবেদন: ত্রিপুরা ইস্যুতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সারা রাজ্য জুড়ে। ত্রিপুরার মাটিতে আগামী ২০২৩ এর বিধানসভা ভোটের আগে নিজেদের আর‌ও শক্তিশালী করতে মরিয়া হয়ে সচেষ্ট হয়েছে তৃণমূল। কিন্তু ত্রিপুরার মাটিতে তৃণমূলকে বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।ত্রিপুরার মাটিতে আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন দেবাংশু ভট্টাচার্য সহ তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতা নেত্রী এবং কর্মীসমর্থকরা।

এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখালে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে ত্রিপুরা পুলিশ। এর পরেই তাদেরকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পেশ করা হয় যেখানে তারা ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পান। ত্রিপুরায় দেবাংশু দের গ্রেপ্তার করা মাত্র সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, দোলা সেন প্রমুখেরা।পুলিশ আধিকারিক দের সাথে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন ব্রাত্য বসু, কুনাল ঘোষ, এবং দোলা সেনরা ।

আরও পড়ুন-“দেবাংশু’দের কোনো প্রাথমিক চিকিৎসা করায়নি ত্রিপুরা পুলিশ”- এস‌এসকেএম চত্বর থেকে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

খোয়াই থানার ভীতরে সমানে বসেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও পুলিশ আধিকারিক দের সাথে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অভিষেক অভিযোগ করেছেন যে দেবাংশু দের গ্রেপ্তার করার পর থেকে সারা রাত তাদেরকে খেতে দেয়নি পুলিশ। এরপর আদালতে যুব তৃণমূল নেতাদের জামিন মঞ্জুর হয়। ‌

খোয়াই থানা থেকে বের হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন ত্রিপুরার বিজেপি নেতৃত্বের প্রতি ।আজ ত্রিপুরা কান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপিকে ব্যাপক আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছেন,”বাংলার মাটিতে যখন নাড্ডার গাড়ির ওপর আক্রমণ করা হয়েছিল তখন তিন আইপিএসকে তলব করা হয়েছিলো। কিন্তু অভিষেকের উপর ত্রিপুরায় হামলার ঘটনায় কোনো আইপিএসকে তলব করা হয়নি।

আরও পড়ুন-“আপনাদের কাঁধে পদ্মফুল নয়, অশোক স্তম্ভ রয়েছে”- ত্রিপুরার পুলিশকে গর্জে উঠে বললেন অভিষেক।

এখন মানবাধিকার কমিশনের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। ত্রিপুরায় কি স্বেচ্ছাচারিতা চলছে সেটা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা এসে দেখুক। রাজনৈতিক দলদাসবৃত্তি ছেড়ে কমিশনের উচিৎ নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একবার ত্রিপুরার মাটিতে গিয়ে পরিস্থিতি দেখুক।

আরও পড়ুন-কুনাল ঘোষের লেখা চিঠির উত্তর দিলেন অমিত শাহ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এখন বিজেপির কমিশন হয়ে উঠেছে। ত্রিপুরার মানুষকে বলবো আগামী বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে আশীর্বাদ করুন। ত্রিপুরায় জঙ্গলরাজ চলছে। ১০ হাজার ৩২৩ জন শিক্ষকের চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

বহু মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। ত্রিপুরার মানুষের গনতন্ত্র বিপন্ন।”

Related Articles

Back to top button