নিউজটেক নিউজপলিটিক্সরাজ্য

টোটো চেপেই মানুষের দোরে দোরে পৌঁছাচ্ছেন বলাগড়ের বিধায়ক

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিধায়ক পদে আসীন হয়েই বহু মানুষের জীবনযাত্রা রাতারাতি পাল্টে যায়। গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়ানো, মাসে আকর্ষণীয় ভাতা সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি নানান প্রাচুর্যে জীবন ভরপুর হয়ে ওঠে । অবশ্য সেই সাথে মানুষের কল্যাণকর দিকটি নিয়েও সব সময় ভাবনা চিন্তা করতে হয় একজন বিধায়ককে। বিধায়ককে এলাকার মানুষ ভরসার প্রতীক হিসেবে মনে করেন ।

সেই মত একজন বিধায়কের প্রতিটি মানুষের কাছে সেরকম ভাবেই নিজেকে উপস্থাপিত করা দরকার। কিন্তু এমনই একজন বিধায়ক রয়েছেন তিনি জীবনের চাকচিক্য ছেড়ে দিয়ে একদম সাধারণ এবং সাদামাটাভাবে জীবন যাপন করতে অত্যাধিক পছন্দ করেন। তিনি প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে বদ্ধপরিকর। তিনি হলেন বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী ।

আরও পড়ুন-“শুক্রবার থেকেই শুরু করতে হবে শুটিং।”- মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কাটলো টলিউডের জট।

মনোরঞ্জন বাবু অতীতে রিকশা চালিয়ে সংসারের দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। সেই মনোরঞ্জন বাবু এবারে তৃণমূল বিধায়ক হয়েছেন। প্রার্থীপদ পাওয়ার পরেই তিনি নিজে রিকশ চালিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে প্রচার করেছিলেন। মানুষের সমর্থন পেয়ে তিনি জয়ী হয়েছেন।

কিন্তু বিধায়কের চাকচিক্যের জীবন ছেড়ে তিনি সাদামাটা জীবন বেছে নিয়েছেন। তবে রিকশ ছেড়ে তিনি এখন দুটোকেই তার বাহন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এলাকার বিধায়ক হিসেবে চারচাকা গাড়ি তিনি চাপেন না। তিনি টোটো চালিয়েই মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন ।

আরও পড়ুন-“বছরের দুই কিস্তিতে পাওয়া যাবে ১০ হাজার টাকা।”- কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ভাতা বৃদ্ধি করলেন মুখ্যমন্ত্রী

এছাড়াও মনোরঞ্জন বাবু বলেছেন, এই টোটো করে তিনি দরকার পড়লে অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে পারবেন। মনোরঞ্জন বাবু বলেছেন, “দিন দিন যেভাবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই পরিস্থিতিতে অল্পকিছু বিদ্যুৎ খরচ করেই মানুষের কল্যাণার্থে আমি নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারব। মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে বিধায়ক নির্বাচিত করেছেন। তাই আমি প্রতিটি মানুষের কল্যাণার্থে কাজ করে যাব।”

আরও পড়ুন-গঙ্গায় ভেসে এলো ২২ দিনের একরত্তি শিশুকন্যা। যাবতীয় দ্বায়িত্ব নিলো যোগী সরকার।

বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন বাবু খুবই সাধারণ একটি অফিসে বসেন যেখানে বহু মানুষ প্রতিদিন আসা-যাওয়া করে থাকেন। সকলের সাথেই তিনি কথা বলেন। কয়েক দিন টানা বৃষ্টিতে ব্যাহত হয়েছে নগর জীবন। এই পরিস্থিতিতে মনোরঞ্জন বাবু নিজে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়ে আসছেন যে কারোর কোন সমস্যা হচ্ছে কি না, কোথাও কোন জল জমেছে কিনা ।

এলাকাবাসী মনোরঞ্জন বাবুর এই মানবিক কর্মকান্ড দেখে যথেষ্ট আপ্লুত হয়েছেন। এমন একজন সাদামাটা বিধায়ক পেয়ে তারা সকলেই আনন্দিত।

Related Articles

Back to top button