ভোট-পরবর্তী হিংসার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলো হাইকোর্ট।

ভোট-পরবর্তী হিংসার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলো হাইকোর্ট।

নিজস্ব প্রতিবেদন: একুশের বিধানসভা ভোটে বাংলার মানুষ তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। ২১৩ টি সিট পেয়ে বাংলায় তৃতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করেছে তৃণমূল। কিন্তু ভোটে জয়লাভ করার পর থেকেই গণতন্ত্রকে রীতিমতো প্রহসনে পরিণত করে দিয়েছে এক শ্রেণীর মানুষ জন। বাংলার মাটিতে বিভিন্ন জায়গায় হিংসা হানাহানির আগুন জ্বলছে ।‌

বেশিরভাগ জায়গাতেই তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের অত্যন্ত মারধর করার, তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করার, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি থেকে প্রাণ ভয়ে অসমে পালিয়ে গিয়েছেন কয়েক হাজার হিন্দু বিজেপি সমর্থক , এমনটাই দাবি করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা। বাংলা এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেকেই দাবি তুলেছেন যে অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হোক।

আরও পড়ুন-“তৃণমূলকে বাংলা থেকে উচ্ছেদ করতে যা করতে হয় তাই করবো।”- শহীদ মঞ্চ থেকে হুঙ্কার শুভেন্দুর

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রিপোর্ট জারি করে জানিয়েছে, ”রাজ্যে প্রকৃতপক্ষেই হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এছাড়াও কমিশন জানিয়েছে যে, পুলিশ প্রশাসন এই পরিস্থিতিতে কোনোরকম সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করছে না। রাজ্য সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে বিভিন্ন জায়গায় হিংসাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে চলেছে।”জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই রিপোর্টকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে রাজ্য তৃণমূল। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আবার রাজ্যের প্রশস্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন-পিএসি পদ থেকে মুকুল রায়কে সরানোর প্রমাণ জোগাড় করে টুইট করলেন শুভেন্দু অধিকারী।

হাইকোর্ট নির্দেশ জারি করেছে যে আগামী ২৬ শে জুলাইয়ের মধ্যেই রাজ্য সরকারকে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় হলফনামা জমা দিতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হতে চলেছে আগামী ২৮ শে জুলাই। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবীরা আজও রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জানিয়েছেন রাজ্যে এখনও ভোট পরবর্তী হিংসার পরিস্থিতি চলছে।এছাড়াও মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবী বলেছেন, “রাজ্যে এখনও পর্যন্ত বহু মানুষের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, অনেককেই খুন হতে হচ্ছে।

কিন্তু রাজ্য পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। ‌ সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে সুবিচার পাচ্ছেন না।