নিউজপলিটিক্স

“শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্জলী যাত্রা হয়েছে”- বিশ্বভারতীর উপাচার্য বাড়ি ঘেরাও করার প্রসঙ্গে বললেন দিলীপ ঘোষ।

নিজস্ব প্রতিবেদন: দেশের বহু বিদ্বজন শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনীতির বিরোধিতা করেছেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতন এর অন্যতম প্রসিদ্ধ শিক্ষাক্ষেত্র বিশ্বকবির নিজের হাতে গড়া বিশ্বভারতী বিদ্যালয় তথা শান্তিনিকেতনের মাটিতেও যথেষ্ট রাজনৈতিক আবহের সূত্রপাত ঘটেছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এতদিন রাজনৈতিক ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। ‌ কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে অন্যান্য অধ্যাপক অধ্যাপিকা এবং ছাত্র ছাত্রীদের একটা বৃহৎ অংশের গন্ডগোল দেখা দিয়েছে। ‌ বীরভূমের রাজ্য সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বারবার অভিযোগ করেছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিজেপি আশ্রিত। তিনি অভিযোগ করেছেন যে উপাচার্য বিজেপি নেতাদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রাজনীতিকরণ করছেন।

আরও পড়ুন –সেপ্টেম্বরে টানা ১২ দিন বন্ধ থাকে চলেছে ব্যাঙ্ক। জেনে নিন বিস্তারিত

কয়েকদিন আগেই বিশ্বভারতীর একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠান’কে কেন্দ্র করে যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। ‌
এই আবহের মধ্যে অনুব্রত মণ্ডল ঘোষণা করেছিলেন যে, “এবার বিশ্বভারতীর ভিতরে ঢুকে রাজনীতি করবো।” যদিও গত তিন বছর বিশ্বভারতীতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ কোনরকম কর্মসূচি গ্রহণ করেনি। কিন্তু আজ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বিশ্বভারতীর মধ্যস্থিত স্টেট ব্যাঙ্কের পাশে পতাকা উত্তোলন করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নতুন ইউনিট গঠন করা হলো।

এদিকে বিশ্বভারতীর উপাচার্যের বাড়ি ঘেরাও করার ঘটনায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে সারা রাজ্য জুড়ে। শিক্ষা ক্ষেত্রে এই রাজনীতিকরণের বিষয়ে নিজের মতামত জ্ঞাপন করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার যেমন অন্তর্জলী যাত্রা ঘটেছে আইন-শৃঙ্খলার তেমন‌ই অন্তর্জলী যাত্রা হয়ে গিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টা হল পড়াশোনা করার জন্য এটা রাজনীতি করার জন্য নয়।

আরও পড়ুন –আবার ধর্মঘট ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যাঙ্কার অ্যাসোসিয়েশানের।

এই যেমন শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সারা পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত, এখানে দেশ-বিদেশের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে আসে। এই প্রতিষ্ঠানের সাথে কবিগুরুর নাম জড়িয়ে রয়েছে। সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যদি কেউ রাজনৈতিক আখড়া করতে চায় , তাহলে আমার ধারণা তারা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিজের হাতে শেষ করতে চায়।

এখন মাথার ঘায়ে কুকুর পাগল হয়ে গেছে , তার ক্ষমতা চাই, কুর্সি চাই। সমাজের লোক বাঁচুক, মরুক, মহামারী হয়ে যাক, তাতে কারো কিছু যায় আসে না। এদের ক্ষমতায় থাকতে হবে। এই ক্ষমতার থাকার ইচ্ছা, এটাই সমাজের শিক্ষাব্যবস্থাকে অবনতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।”

Related Articles

Back to top button