নিউজপলিটিক্সরাজ্য

পলিটব্যুরোর বৈঠকে জেলা নেতৃত্বদের মুখ বন্ধ করতে মরিয়া হয়ে রয়েছে সিপিএম।

নিজস্ব প্রতিবেদন: একুশের ভোটে বাংলা দখলের লড়াইয়ে আইএস‌এফ এবং কংগ্রেসকে সাথে নিয়ে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলো সিপিএম। কিন্তু একুশের ভোটে রাজ্যে খাতাই খুলতে পারেনি বাম দল। যার জন্য বাম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আইএস‌এফের সাথে জোটের ব্যাপক বিরোধিতা করেছে।

বাম শরিকরা চাইছে ভোট-পরবর্তী বামফ্রন্টকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে। সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকেও আইএস‌এফের সাথে জোট করার বাস্তবতা নিয়ে যথেষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। সাঁইবাড়ি হত্যাকান্ড নিয়ে সিপিএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ফেসবুক পোস্টে ‘কংগ্রেসী গুন্ডা’ শব্দের ব্যবহার করায় প্রবল আপত্তি জানিয়ে সিপিএমকে চিঠি দিয়েছে কংগ্রেস। এছাড়াও প্রদেশ কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতারা রাহুল গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধীকে ইমেইল করে জোটের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন-আইএস‌এফ আর কংগ্রেসের সাথে কি জোট ভাঙতে চলেছে বাম নেতৃত্ব? উঠলো জল্পনা

সিপিএম বর্তমানে ১৬ টি দলের ঐক্যে জোর দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার বামফ্রন্টের বৈঠকে জোটের প্রসঙ্গ তুললে সিপিএম নেতৃত্ব এই জোটের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছে। বামজোটের উপরে অধিক গুরুত্ব আরোপ করছে সিপিএম।ফর‌ওয়ার্ড ব্লক ঘোষণা করেছিলো যে, ‘মোর্চায় নেই , ফ্রন্টে রয়েছি।’

এছাড়াও ফর‌ওয়ার্ড ব্লক জানিয়েছিলো যে বামফ্রন্টে আইএস‌এফ এবং অন্যান্যরা তাদের দাবী চাপিয়ে দিলে সেটা কিছুতেই মেনে নেওয়া হবেনা। সংযুক্ত মোর্চায় যে আপত্তি রয়েছে তা আগেই বুঝিয়ে দিয়েছে ফর‌ওয়ার্ড ব্লক, আর‌এসপি।এই আবহে সিপিএমের রাজ্য কমিটির এক বিশাল বৈঠক আয়োজিত হতে চলেছে। এই বৈঠকে পলিটব্যুরোর ৭ জন সদস্য উপস্থিত থাকতে চলেছেন যারা বাংলা ভাষা জানেন না।

আরও পড়ুন-মুকুলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ময়দানে আসীন হলেন শুভেন্দু। সাজানো হচ্ছে রণকৌশল।

এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন প্রকাশ কারাত, বৃন্দা কারাত, সীতারাম ইয়েচুরি, মানিক সরকার প্রমুখেরা। এই বৈঠকের আগে জেলা নেতৃত্তের মুখ বন্ধ করার মরিয়া চেষ্টা করছেন সিপিএমের শীর্ষ নেতারা। কারণ সিপিএম নেতৃত্ব কিছুতেই চাইছেনা পলিটব্যুরো নেতাদের সামনে সিপিএমের রাজ্য নেতারা জোট প্রসঙ্গে কিছু আপত্তিজনক কথা বলে সিপিএমের রাজ্য কমিটির ইমেজে ধাক্কা দিক।এই মর্মে সিপিএমের রাজ্য কমিটির নেতাদের নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে যে পলিটব্যুরো সদস্যদের সামনে তাদের ক্ষোভ যেন কিছুতেই প্রকাশ না করা হয়।

আরও পড়ুন-রাজ্য সভাপতির পদে দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন দেবশ্রী। দিলীপ ঘোষ আসীন হতে পারেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপদে।

কিন্তু কয়েকজন সিপিএম নেতা জানিয়েছেন যে আর দীর্ঘ সময় তাদের পক্ষে এইভাবে চুপ করে থাকা কিছুতেই সম্ভব নয়। এমনিতেই দিনের পর দিন আইএস‌এফ এবং কংগ্রেস জোটের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন সিপিএমের অন্যান্য শরিক দলগুলি। তাই সিপিএমের রাজ্য কমিটি সমস্ত নেতাদের নিজেদের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দিয়েছে সিপিএম শীর্ষ নেতৃত্ব।

Related Articles

Back to top button