শীতলকুচি কাণ্ডে বাদানুবাদ তুঙ্গে; জনসভায় গিয়ে একে অপরের প্রতি আক্রমনাত্মক হলেন মোদি—মমতা!

শীতলকুচি কাণ্ডে বাদানুবাদ তুঙ্গে; জনসভায় গিয়ে একে অপরের প্রতি আক্রমনাত্মক হলেন মোদি—মমতা!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-চতুর্থ দফার নির্বাচনে শীতলকুচির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত জোরকদমে রাজনৈতিক টানাপোড়েন বর্তমান।প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সকলেই একে অপরের প্রতি দোষারোপ করতে শুরু করে দিয়েছেন ইতিমধ্যে। যদিও এই ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে কার হাত রয়েছে তা এখনো পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য গতকাল দুপুর শুরু হওয়ার আগেই শীতলকুচির মাথাভাঙ্গা এলাকার জোরপাটকিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাথে স্থানীয় গ্রামবাসীদের বচসা শুরু হয়।

কিছুক্ষণ অশান্তি চলার পর হঠাৎ করে একসাথে বহুসংখ্যক গ্রামবাসী কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাত থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাধ্য হয়ে বাহিনীর জওয়ানরা ভিড়ের উপর গুলি চালাতে বাধ্য হয়। এমতাবস্থায় কেরল থেকে বাংলায় ভোট দিতে আসা ৪ যুবকের উপর সেই গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই যুবকদের মৃত্যু হয়।এই ঘটনার পরেই কৃষ্ণনগরের সভায় এসে প্রধানমন্ত্রী মমতাকে আক্রমণ করে স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন,”বিজেপির পক্ষে জনসমর্থন দেখে দিদি ও তাঁর গুন্ডারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। কুর্সি হারাচ্ছেন দেখে এই স্তরে নেমে গিয়েছেন দিদি।

দশ বছর একটি রাজ্য শাসন করার পর দিদি এখন সাধারণ মানুষকে শেখাচ্ছেন কীভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করতে হবে। কেমন করে বুথে হামলা করতে হবে। দেশের বাহাদুর জওয়ান জঙ্গিদের, নকশালদের ভয় পায় না। তারা আপনার গুন্ডাদের ভয় পাবে”?কার্যত প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলার রাজনীতি।প্রথমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাথাভাঙ্গা হাসপাতালে ওই মৃত যুবকদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে যাবেন বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন কোচবিহারের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেয়।

আরও পড়ুন-বিজেপি নেত্রী লকেটের গাড়ির কাঁচ ভাঙার ঘটনায় কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল;নিজেই কাঁচ ভেঙেছেন লকেট,ভিডিও ফুটেজ নিয়ে দাবি শাসক দলের!

এই পরিস্থিতিতে হালিশহরের সভা থেকে বিরোধী শিবির সহ প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে মমতা বলেন,”আমি সেন্ট্রাল ফোর্সকে খারাপ বলছি না। কিন্তু তাদের পরিচালনা করছে অমিত শাহ। দেশের হোম মিনিস্টার। দেশের কাজ করে না, বাংলায় বসে চক্রান্ত করছে। নয় মেয়েদের উপর অত্যাচার করছে, নয় এলাকায় গিয়ে গুলি চালিয়ে দিচ্ছে। নানারকম অত্যাচার করছে। অত্যাচার করতে করতে সাহস বেড়ে গিয়েছে।

ভোটের লাইনে চারজনকে গুলি চালিয়ে মেরে দিয়েছে।আজকে বলেছে, পুলিস মেরেছে, না মেরে কোনও উপায় ছিল না। ভাবুন একবার দেশের প্রধানমন্ত্রী বলছে, গুলি চালিয়ে ঠিক করেছে। মানে ক্নিনচিট দিয়ে চলে গেল। শিলিগুড়ি দাঁড়িয়ে, মিটিং করে যাঁরা গুলি চালিয়েছে, তাঁদের ক্নিনচিট দিয়ে চলে গেলেন। তিনি কিন্তু শীতলকুচি গেলেন না একবারও। যেখানে পাঁচজনের ডেডবডি পড়ে রয়েছে”।