রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আগমনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি কমিশনের; কোচবিহারে যাচ্ছেন না মমতা!

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আগমনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি কমিশনের; কোচবিহারে যাচ্ছেন না মমতা!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-শেষমেষ কমিশনের সিদ্ধান্তের মান বজায় রেখে কোচবিহারে যাচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।প্রসঙ্গত গতকাল কোচবিহারের শীতলকুচিতে পরপর চার যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে স্থানীয় এলাকা। এমতাবস্থায় গতকাল জনসভা থেকেই শীতলকুচিতে ওই যুবকদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার জন্য কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা হাসপাতালে আগমনের কথা জানিয়েছিলেন মমতা।

কিন্তু হঠাৎ করেই সন্ধ্যের দিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয় আগামী ৪৮ ঘন্টা কোচবিহারে কোন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ প্রবেশ করতে পারবেন না।প্রথমে নিজের কোচবিহার যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকলেও শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য হন তৃণমূল সুপ্রিমো। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে স্থানীয় থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আজ থেকেই সেই এফআইআর এর উপর ভিত্তি করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে।

প্রসঙ্গত গতকাল হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের বচসা শুরু হলে গুলি চালাতে বাধ্য হয় বাহিনীর জওয়ানরা।এমতাবস্থায় হঠাৎ করে কেরল থেকে বাংলায় ভোট দিতে আসা চার যুবকের উপর সেই গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই চার ব্যক্তির। তড়িঘড়ি তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও প্রাণে বাঁচানো যায়নি।ঘটনার পর থেকে কোচবিহার সংলগ্ন বিভিন্ন বর্ডার সিল করে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন-উত্তপ্ত নদীয়ার হাঁসখালি; বিজেপির বুথ সভাপতিকে লক্ষ্য করে গুলিচালনা, নেপথ্যে তৃণমূল!

শুধুমাত্র তাই নয় অসম সীমান্তের বর্ডারের উপর কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা জারি করা হয়েছে।যাতে কোনোভাবেই রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ কোচবিহারে প্রবেশ করে নিজেদের প্রভাব খাটাতে না পারেন তাঁর জন্যে যথেষ্ট পরিমাণে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কমিশন। আপাতত এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন মমতা। অপরদিকে কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে মমতাকেই এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত করে বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আপাতত যতক্ষণ পর্যন্ত না সম্পূর্ণ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট কমিশনের হাতে আসছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব নয়। অপরদিকে এদিন রবিবার কোচবিহারের জোরপাটকিতে ওই মৃত চার যুবকের স্মরণে কালাদিবস পালন করার পাশাপাশি শোক সভা এবং মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।স্থানীয় গ্রামবাসীদের একাংশ এই ঘটনার প্রতিবাদস্বরূপ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ফাঁসি দাবি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তারাও মনে করছেন বিজেপির পরিকল্পনার জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে।