পঞ্চম দফার নির্বাচনী প্রচারে কাটছাঁট করল কমিশন;৭২ ঘন্টা আগেই বন্ধ করতে হবে প্রচার!

পঞ্চম দফার নির্বাচনী প্রচারে কাটছাঁট করল কমিশন;৭২ ঘন্টা আগেই বন্ধ করতে হবে প্রচার!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-চতুর্থ দফার ভোট গ্রহণ পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকেই দফায় দফায় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়। এরপর বেলা বাড়ার সাথে সাথে কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকায় পরপর ৫ যুবকের মৃত্যু ঘটে। প্রথমে একজন নতুন ভোটারকে গুলি চালানোর ফলে প্রাণ হারাতে হয়। এবং পরবর্তী সময়ে কেরল থেকে আসা ৪ যুবকের উপর হঠাৎ করেই এলোপাতাড়িভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালায়।

এমতাবস্থায় শেষ পর্যন্ত পঞ্চম দফার নির্বাচনের ক্ষেত্রে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল কমিশন। নির্বাচন কমিশনের নয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পঞ্চম দফার ভোট শুরুর ৭২ ঘন্টা আগেই সমস্ত প্রচার বন্ধ করে দিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে। গতকাল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে,’আগামী ১৭ এপ্রিল পঞ্চম দফায় যে ভোটগ্রহণ হবে, তার ৭২ ঘণ্টা আগেই প্রচার বন্ধ করতে হবে’।

কিন্তু হঠাৎ করেই কেন নেওয়া হলো এই রকমের সিদ্ধান্ত? জানা গিয়েছে যাতে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণভাবে পঞ্চম দফার নির্বাচন সমাপন করা যায় তার জন্যই এহেন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কমিশন। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পঞ্চম দফার ভোটের জন্য ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শেষ প্রচার চালাতে পারবে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এরপর সমস্ত ধরনের প্রচার বন্ধ করে দিতে হবে।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গতকাল চতুর্থ দফার ভোট শুরু হওয়ার পরেই কোচবিহার সহ হাওড়া এবং হুগলির বিভিন্ন জায়গা ক্রমাগত উত্তপ্ত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন-লাগামছাড়া করোনা সংক্রমণ;২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছল ৪০০০ এর উপর!জেনে নিন গতকালের পরিসংখ্যান।

প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হলেও হঠাৎ করেই কোচবিহারের পাঠানপুলি এলাকায় এক নতুন ভোটার আনন্দ বর্মন এর উপর ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর সময় গুলি চালানো হয়।মাত্র ১৮ বছর বয়স ছিল ওই যুবকের।প্রথমে সেই যুবক তৃণমূল না বিজেপি সমর্থক তা নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও পরবর্তীতে জানা যায় সেই যুবকটি গেরুয়া শিবিরের সমর্থক ছিল।

এর কিছুক্ষন পরেই আবারো কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকায় জোরপাটকিতে হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ছোড়া এলোপাথাড়ি গুলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় স্থানীয় গ্রামের ৪ যুবককে। পরিবার সূত্রে খবর কেরল থেকে পশ্চিমবঙ্গে ভোট চলার জন্য ভোট দিতে এসেছিল তারা। স্থানীয় রাজনীতির সাথে তাদের কোনরকমভাবেই যোগাযোগ নেই।কেন্দ্রীয় বাহিনীর বক্তব্য অনুসারে, গ্রামবাসীরা তাদের ঘেরাও করলে গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল তারা। আপাতত কোচবিহারে পরবর্তী ৭২ ঘন্টা নেতা-নেত্রীদের আগমনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রিপোর্ট তলব করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।