সকল নেতা নেত্রীদের কোচবিহারের ঢোকার উপর ৭২ ঘন্টার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি কমিশনের!

সকল নেতা নেত্রীদের কোচবিহারের ঢোকার উপর ৭২ ঘন্টার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি কমিশনের!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-কোচবিহারের শীতলকুচিতে যুবকদের উপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনায় শেষপর্যন্ত কড়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৭২ ঘন্টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ কোন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা কোচবিহারে প্রবেশ করতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশনের ভাবনা অনুযায়ী, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কোচবিহারে উপস্থিত হলে অশান্তির আগুন যেকোনো মুহূর্তে মাত্রাতিরিক্ত রূপ ধারণ করতে পারে। কারণ এখনও পর্যন্ত গতকালের ঘটনায় স্থানীয় অঞ্চলজুড়ে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে রয়েছে।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গতকাল চতুর্থ দফার ভোটে শুরুতেই দফায় দফায় কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এমতাবস্থায় হঠাৎ করেই কোচবিহারের পাঠানপুলি এলাকায় এক নতুন ভোটার ভোটার লাইনে দাঁড়ালে হঠাৎ করেই তার উপর গুলি চালানো হয়। জানা যায় ওই মৃত যুবক আনন্দ বর্মনের বয়স মাত্র ১৮ বছর।

প্রথমে এই যুবক তৃণমূল নাকি বিজেপি সমর্থক তা নিয়ে বেশ কিছুক্ষন মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।স্থানীয় গেরুয়া শিবিরের নেতারা তাকে বিজেপি সমর্থক বলে দাবি করলেও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা নাটাবাড়ির তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ তাকে তৃণমূল কর্মী হিসেবে জানান। কিন্তু কিছুক্ষণ খোঁজ করার পর জানা যায় ওই যুবক বিজেপি সমর্থক হওয়ায় তার উপর আক্রমণ চালানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন-‘দিদির ঘুম উড়ে গিয়েছে;ওঁর রাগ আকাশ ছুঁয়েছে’,কটাক্ষ মোদির!

বেলা বাড়ার সাথে সাথেই কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকার মাথাভাঙ্গার জোরপাটকিতে ১২৬ নং বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ৩০০-৩৫০ জন মিলে ঘেরাও করে তাঁদের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। যদিও এই ঘটনার কোন বিস্তারিত কারণ জানা যায়নি। এর পরেই কেরল থেকে বাংলায় ভোট দিতে আসা চার যুবক হামিদুল হক, মনিরুল হক, সামিয়ুল মিঞ্চা, আমজাদ হোসেনের উপর হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর চালানো এলোপাথাড়ি গুলি এসে লাগে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের প্রাণে বাঁচানো যায়নি।স্থানীয় গ্রামবাসীদের একাংশ এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ বিজেপির পরিকল্পনামাফিক চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। মৃত যুবকদের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে যত শীঘ্র সম্ভব এই ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এমনকি এক মৃত ব্যক্তির দিদি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ফাঁসি দেওয়ার পর্যন্ত দাবি জানিয়েছেন।