করোনায় আক্রান্ত ওষুধ ব্যবসায়ীর মৃতদেহ দীর্ঘক্ষণ পড়ে বাড়ির বারান্দায়। ভয়াবহ ঘটনা কৃষ্ণনগরে।

করোনায় আক্রান্ত ওষুধ ব্যবসায়ীর মৃতদেহ দীর্ঘক্ষণ পড়ে বাড়ির বারান্দায়। ভয়াবহ ঘটনা কৃষ্ণনগরে।

নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনার দ্বিতীয় পর্যায়ের ভয়াবহ তান্ডব চলছে সারা দেশজুড়ে। একের পর এক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এই মহামারিতে। জারি রয়েছে মৃত্যু মিছিল। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বুকে করোনা রোগীদের হাসপাতালের বেড পেতে চরম হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। পাওয়া যাচ্ছে না অক্সিজেন। অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হয়েছে অনেক করোনা রোগীর।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১ টা নাগাদ মৃত্যু ঘটে সোনারপুরের করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তির। ওই ব্যক্তির ছেলে অভিযোগ করেছেন যে, গত ১৭ ই এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হন তাঁর বাবা, কিন্তু বহু হাসপাতালে ঘুরেও বেড পাননি ওই অসহায় ব্যাক্তি। অবশেষে অক্সিজেন না মেলায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই ব্যাক্তি। কিন্তু তার পরেও সরকারের বিভিন্ন বিভাগে ফোন করলেও ওই ব্যক্তির মৃতদেহ নিতে আসেনি পুরসভা। যার দরুন বাড়িতেই প্রায় ১৪ ঘন্টা ধরে পড়েছিলো ওই আক্রান্ত ব্যাক্তির নিথর দেহ। ঠিক এরকমই আরেকটি অমানবিক ঘটনা ঘটেছে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে।

আরও পড়ুন-“যারা দুর্বল তাদের অ্যাটাক করছে করোনাভাইরাস।”- বললেন দিলীপ ঘোষ।

করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন পেশায় ওষুধ ব্যবসায়ী এক ব্যাক্তি। গত বৃহস্পতিবার তিনি তীব্র শ্বাসকষ্টে রাত দুটো নাগাদ মারা যান। তার আগে শ্বাসকষ্ট শুরু হ‌ওয়ায় বারান্দায় চেয়ারে এসে বসেছিলেন ওই ব্যাক্তি। তারপরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তারপরে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো কর্মীর দেখা মেলেনি ওই ব্যাক্তির মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য। বারান্দাতেই চেয়ারে পড়েছিলো ওই ব্যাক্তির মৃতদেহ।

দেহ আগলে বসেছিলেন তাঁর প্রৌঢ় স্ত্রী। মৃতের নাম হল বিপ্লব সাহা। একজন ওষুধ ব্যবসায়ীর এভাবে অক্সিজেনের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনায় অত্যন্ত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মধ্যে। এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলছেন মানুষজন।