মাটি খুঁড়ে বাড়ির গোডাউন থেকে উদ্ধার বাবা, মা, কন্যা, ঠাকুমার মৃতদেহ। খুনের অভিযোগে ধৃত ১৯ বছরের তরুণ। ভয়াবহ ঘটনা মালদার কালিয়াচকে।

মাটি খুঁড়ে বাড়ির গোডাউন থেকে উদ্ধার বাবা, মা, কন্যা, ঠাকুমার মৃতদেহ। খুনের অভিযোগে ধৃত ১৯ বছরের তরুণ। ভয়াবহ ঘটনা মালদার কালিয়াচকে।

নিজস্ব প্রতিবেদন: পরিবারের চারজনকে খুন করে বাড়িতেই পুঁতে রাখার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদার কালিয়াচকে। জানা গিয়েছে এই বীভৎস হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বাড়ির ছোটো ছেলে আসিফ মহম্মদ । নিজের বাবা , মা , বোন এবং ঠাকুমাকে খুন করে বাড়িতেই পুঁতে রেখেছিলো সে। জানা গিয়েছে এই হত্যাকান্ড সে ঘটিয়েছে চারমাস আগে।

বাড়ির চারজনকে হত্যা করে বাড়ি লাগোয়া গোডাউনে পুঁতে রেখেছিলো সে। তার দাদা প্রাণভয়ে পালিয়েছিলো‌ বলে জানিয়েছে। তারপরে বাড়ি ফিরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে গতকাল। তারপরেই ১৯ বছরের ওই যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করলে জেরায় সে নিজের কুকীর্তির কথা স্বীকার করে নেয়।

আরও পড়ুন-দীর্ঘ আট বছর পর জামিন পেলেন সারদা কান্ডে অন্যতম অভিযুক্ত দেবযানী। তবে এখন‌ই তাঁর কপালে নেই জেলমুক্তি।

সে জানিয়েছে যে দীর্ঘ চারমাস আগে বাবা মা সহ মোট চারজনকে খুন করেছে। কিন্তু কি কারণে সে এই হত্যাকান্ড চালিয়েছে সেগ ব্যাপারে এখনো পুলিশকে কিছু জানায়নি সে।আজ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে ওই বাড়িতে মাটি খুঁড়ে মৃতদেহ তোলা হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার, থানার পুলিশ কর্মীরাও।

এই ভয়াবহ হত্যাকান্ডে স্তম্ভিত সারা রাজ্যবাসী। কিভাবে একজন ১৯ বছরের তরুণ এই নারকীয় হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে তা ভেবে স্তম্ভিত হয়ে যাচ্ছেন সকলেই । জানা গিয়েছে প্রথমে মাদক খাওয়ায় ওই যুবক তার বাবা মা’কে ও বোন, ঠাকুমাকে। তারপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাদের কুয়োয় ফেলে দেয়।

আরও পড়ুন-জামাইষষ্ঠী সেরে বাড়ি ফেরার পথে স্ত্রী ছেলেমেয়েদের সামনেই ছিনতাইবাজদের গুলিতে মৃত ব্যক্তি। চাঞ্চল্যকর ঘটনা হুগলির সিঙ্গুরে।

তারপর সুড়ঙ্গের মাধ্যমে ওই মৃতদেহ গুলোকে নিয়ে এসে গোডাউনে পুঁতে দেয় অভিযুক্ত আসিফ। তার প্রতিবেশীরা জানিয়েছে সে কারো সাথে মেলামেশা করতো না এবং বাড়ির বাইরে বের হতো না। তার সমস্ত খাবার আসতো অনলাইনে। অভিযুক্তের নামে বাড়ির কিছু সম্পত্তি ছিল।

এই সম্পত্তি বিক্রি করার কথা উঠলে তখন প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তারাই অভিযুক্তের দাদাকে খবর দেয়। ‌ তারপর অভিযুক্তের দাদা এসে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। ‌ তবে তার দাদাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

আসিফের দাদা জানিয়েছে যে, তাকেও খুন করতে গিয়েছিলো আসিফ। সে প্রাণভয়ে কলকাতায় পালিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু কি কারণে আসিফ পরিবারের সকলকে খুন করলো সে সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।