কড়া সতর্কবার্তা রাজ্য জুড়ে;মাস্ক না পড়ায় শ্যামবাজারে গ্রেফতার করা হল বেশ কয়েকজনকে!

কড়া সতর্কবার্তা রাজ্য জুড়ে;মাস্ক না পড়ায় শ্যামবাজারে গ্রেফতার করা হল বেশ কয়েকজনকে!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-করোনাভাইরাস এর দ্বিতীয় ঢেউ রাজ্যজুড়ে যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে; তা ক্রমাগত বেশ সংকটজনক অবস্থার সৃষ্টি করছে। ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন এর কার্যক্ষমতা অনেক কমে গিয়েছে নতুন প্রজাতির ভাইরাসের উপর।যার ফলস্বরূপ চিকিৎসকদের মধ্যেও কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। কারণ অধিক মাত্রায় অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে বর্তমানে।

ভাইরাসের মিউটেশনের ফলে এর শক্তি এতটাই বৃদ্ধি হয়েছে যে মানব শরীরে প্রবেশ করা মাত্রই তার সমস্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের ফুসফুস এমন ভাবে আক্রান্ত হচ্ছে যে খুব বেশি সময় স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস কিয়া চালাতে পারছেন না আক্রান্ত ব্যক্তিরা। যদিও ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ থেকে বাঁচতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রাজ্য লকডাউন এর পথে হেঁটেছে। তবে তার বিশেষ কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন-ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কৃষ্ণনগর উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী কৌশানি মুখোপাধ্যায়!

গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে সর্বমোট দৈনিক ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লক্ষ্য ৩২ হাজার জনেরও বেশী মানুষ। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৯৪৮ জন।ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ভোটের প্রচার সহ মিছিল-সমাবেশ অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়েছে। গতকাল থেকেই বিজেপি তরফে জানানো হয়েছে আপাতত রাজ্যে আর কোনরকম জনসভা করা হবে না। শুধুমাত্র ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। এমতাবস্থায় এদিন শ্যামবাজারে অভিযান চালিয়ে মাস্ক না পড়ায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ।প্রসঙ্গত এদিন শ্যামবাজারের বেশ কয়েক জায়গায় দেখা যায় মাস্ক এর বদলে রুমাল ব্যবহার করছেন অনেকে।

এমনকি দামি মাস্ক কেনার সামর্থ্য থাকলেও, উপযুক্ত সতর্কবার্তা মেনে মাস্ক পড়ছেন না তারা। কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে সেই সময় মাইকিং করে জানানো হচ্ছিল যে, অযথা একেবারেই মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ছাড়া বাড়ি থেকে বের হবেন না। এমনকি মাস্ক কেনার সামর্থ্য না থাকলে কলকাতা পুলিশের তরফে তা বিতরণ করা হবে বলেও জানান আধিকারিকেরা।

কিন্তু তার পরও বেশ কয়েকজনকে সতর্কতা না মেনে পথে দেখা গেলে পুলিশ তাদের আটক করতে বাধ্য হন।বিশেষজ্ঞদের মনে এই ঘটনা জানার পর প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে দেশের এতটা সংকটজনক পরিস্থিতি দেখার পরেও কিভাবে সমস্ত রকম সতর্কতা লংঘন করে চলেছেন মানুষ। চলতি বছরে ভ্যাকসিন আসার পর থেকেই অনেকে মাস্ক এবং স্যানিটাইজার এর ব্যবহার প্রায় ভুলে গিয়েছেন।

যার ফলস্বরুপ এত অত্যধিক মাত্রায় সংক্রমণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছে।আমরা আশা করব দ্রুত দেশ যেন এই সংকটজনক পরিস্থিতি কাটিয়ে আবারো নতুন ভোরের আলো দেখতে পারে। নাহলে পরবর্তীকালে হয়তো ভারতের অর্থনীতি এবং মানব সম্পদের যে ক্ষয়ক্ষতি হবে তা হয়তো আর কখনোই সামলানো সম্ভবপর হবে না।