রূপকথার গল্পকেও হার মানাবে সৌরভ — ডোনার প্রেম কাহিনী!

রূপকথার গল্পকেও হার মানাবে সৌরভ — ডোনার প্রেম কাহিনী!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-প্রেম সম্পর্ক প্রথম থেকেই মধুর।সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে যেকোনো সেলিব্রিটিদের মধ্যেই মন দেওয়া-নেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। কথায় আছে, প্রেমে পড়লে মানুষ চোখে সর্ষেফুল দেখে।জগত নাকি অনেকটাই রঙিন হয়ে যায় ভালবাসার মানুষ চোখের সামনে আসলে।আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন এর মাধ্যমে আমরা জানবো এমন একজনের প্রেম কাহিনী যাকে আমি বা আপনি সকলেই এককথায় মহারাজ বা দাদা নামে চিনি।

বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি সৌরভ গাঙ্গুলীকে চেনেন না এমন মানুষ হয়তো খুব কমই আছেন। বলতে গেলে সারা ভারতবর্ষে তিনি পশ্চিমবঙ্গের যুবরাজ এবং দাদা নামেই অধিক পরিচিত। তার এই নাম গুলোর মাঝে অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে আসল নাম।মাত্র তরুণ বয়সের মধ্যেই তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছিলেন তা হয়তো অনেকের কাছেই ঈর্ষণীয় বিষয়। উল্লেখ্য সৌরভের অধিনায়কত্বে ভারত ৪৯টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে ২১টি ম্যাচে জয়লাভ করে।

এখনো পর্যন্ত ৩১১ টি ওডিআই ম্যাচে সৌরভের রান রয়েছে ১১,৩৬৩।তিনি ১১৩টি টেস্ট খেলেছেন ও ৭,২১২ রান সংগ্রহ করেছেন। ব্যাটিং ছাড়াও বোলিং এর ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সমান দক্ষ।তিনি একদিনের আন্তর্জাতিকে ১০০টি ও টেস্টে ৭১টি ক্যাচ নিয়েছেন। টেলিভিশন জগতে তার জনপ্রিয় শো দাদাগিরি’ বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য। শুধুমাত্র ময়দানে নয় ব্যক্তিগত জীবনেও সৌরভ একজন আদর্শ স্বামী এবং পিতা।

আরও পড়ুন-‘তোর জন্য শরীরের স্ট্রেচ মার্ক, ওজন বৃদ্ধি সবকিছুই মঞ্জুর’;সন্তানকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য শুভশ্রীর!

নৃত্যশিল্পী ডোনা গাঙ্গুলীর সঙ্গে প্রায় দীর্ঘসময়ের প্রেম সম্পর্ক ছিল তার।বলতে গেলে ছোটবেলা থেকেই বন্ধু হিসেবে একসাথে মানুষ হয়েছেন দু’জন।তাই আজ বিয়ের এতগুলো বছর কেটে যাওয়ার পরেও তাদের সম্পর্কে ভাঙ্গন দেখা দেয়নি।তাদের প্রেম কাহিনী যে কোন সিনেমা বা রূপকথার গল্প কেউ হার মানাতে সক্ষম। হয়তো এই প্রতিবেদনটি পড়ার পর অবাক হবেন আপনিও।তাহলে আসুন দেরি না করে প্রতিবেদনের পরবর্তী অংশে চোখ রাখা যাক।আজ থেকে প্রায় ২৬—২৭ বছর আগের কথা,বা তারও বেশি আসলেই খুব ছোটবেলা থেকেই বন্ধু ছিলেন সৌরভ এবং ডোনা।

এই তারকা দম্পতির বাড়ির মধ্যে দূরত্ব ছিল মাত্র কয়েক মিনিটের হাঁটা পথের।ডোনা এ বিষয়ে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করতে গিয়ে জানিয়েছেন,এক বাড়িতে কথা বললে অপর বাড়িতে রীতিমতো সেই কথা শোনা যেত ঠিক এতটাই দূরত্ব ছিল। পাশাপাশি ডোনা জানিয়েছেন,বাড়ির সামনে ব্যাডমিন্টন খেলতেন সকলের প্রিয় দাদা। আর ডোনাকে দেখলে তার হাবভাবটা যেন বদলে যেত। হিরোদের মধ্য কলারটা টানাটানি করে মিষ্টি করে হাসতেন সৌরভ।এরকম ভাবেই চলতে চলতে কখন একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন এই জুটি তা হয়তো তাদের ধারণারও বাইরে ছিল।

তবে তারকা হলেও তাদের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া খুব একটা সহজ কিন্তু ছিল না।সৌরভের পরিবারের সাথে ডোনার পরিবারে ছিল সাপে-নেউলে সম্পর্ক। গাঙ্গুলী পরিবারকে একেবারেই পছন্দ করতেন না ডোনার বাবা।প্রথমে রীতিমতো পালিয়ে বিয়ে করার কথা ভেবেছিলেন সৌরভ। কিন্তু পরে হঠাৎ করেই সৌরভ নিজের বাবার সাথে পরামর্শ করার কথা ভাবেন।অনেকটা চলচ্চিত্রের নায়ক এর বাবার মতোই সৌরভের বাবা তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন সৌরভ যেন শুধুমাত্র প্রেম করাতে ব্যস্ত থাকেন, বাদবাকিটা তার দায়িত্ব।

ঠিক পরের দিনই ডোনার বাড়িতে গিয়ে তার একমাত্র ছেলের জন্য ডোনার হাত চেয়ে ছিলেন মহারাজের বাবা।কিছুক্ষণ সময় চিন্তা করে খুব সাবলীলভাবে মহারাজের বাবার সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে ছিলেন ডোনার বাবা।কারণ এত তরুণ বয়সে মহারাজ সাফল্যের শিখরে পৌঁছে গিয়েছিলেন তাতে তাকে আর না বলা সম্ভব ছিল না। যদিও কখনো নিজের এই সাফল্যের জন্য অহংকার করতে দেখা যায়নি সৌরভকে।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কেবলমাত্র একজন আগ্রাসী মনোভাবাপন্ন অধিনায়কই ছিলেন না,তার অধীনে যে সকল তরুণ ক্রিকেটারেরা খেলতেন, তাদের কেরিয়ারের উন্নতিকল্পেও তিনি প্রভূত সহায়তা করতেন। আপাতত বর্তমানে তিনি বিসিসিআই কমিটির বোর্ড সভাপতি এবং সিএবি এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার পালন করছেন।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by SOURAV GANGULY (@souravganguly)