নিউজটেক নিউজপলিটিক্সরাজ্য

বিধায়ক হিসেবে যে বেতন পাবেন তা কিভাবে খরচ করবেন নিজেই প্রকাশ করলেন শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি।

নিজস্ব প্রতিবেদন: একুশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের কাছে রীতিমতো পর্যুদস্ত হয়েছে বিজেপি। বিজেপির স্টার প্রচারকদের লাগাতার প্রচার বিজেপি-কে জয় এনে দিতে পারেনি। উপরন্তু বিজেপির এবারের নামিদামি তারকা প্রার্থীরাও মুখ থুবড়ে পড়েছেন। বিজেপির দখলে গিয়েছে মাত্র ৭৭ টি আসন।

তবে এবারের গ্ল্যামারের চাকচিক্যের মধ্যেই বাঁকুড়ার শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রে অতি দরিদ্র সাধারণ এক গৃহবধূ চন্দনা বাউড়ির জয় বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে কিছুটা গর্বের স্পর্শ দিয়েছে।বাঁকুড়া শালতোড়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউড়ি। দিনমজুর স্বামী, দুই সন্তানের মা এই গৃহবধূ তাদের টানাটানির সংসারে ভীষণভাবে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করেন। তাকেই এবারের নির্বাচনে লড়ার টিকিট দিয়েছিল বিজেপি।

আরও পড়ুন-গত ২ বছরে নিম্নমুখী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গ্রহণযোগ্যতা সূচক। দাবী সমীক্ষায়।

সকালবেলা সংসারের কাজ গুছিয়ে পান্তা ভাত খেয়ে তিনি বেরিয়ে পড়তেন প্রচার অভিযানে। এলাকার মানুষ তার দিকে বাড়িয়ে দিয়েছেন ভরসার হাত। ভোটে জয় পেয়েছেন চন্দনা দেবী। প্রচারের প্রথম পর্ব থেকেই যথেষ্ট জনসমর্থন পেয়েছিলেন চন্দনা বাউড়ি।

শিরোনামে উঠে এসেছিলেন তিনি। তিনি প্রথম থেকেই জানিয়েছিলেন যে নির্বাচনে জিতলে এলাকার মানুষের পানীয় জলের বন্দোবস্ত করবেন, এলাকার রাস্তাঘাট তৈরি করবেন এবং আরও বিভিন্ন ভাবে মানুষের পাশে থাকবেন। শালতোড়ার মানুষজন‌ও অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছেন চন্দনার দিকে। চন্দনা বাউড়ি বলেছেন যে, তিনি তাঁর বিধায়ক হিসাবে প্রাপ্য টাকার বেশীরভাগ অংশ খরচ করবেন অসহায়, দুঃস্থ মানুষদের জন্য।

আরও পড়ুন-টোটো চেপেই মানুষের দোরে দোরে পৌঁছাচ্ছেন বলাগড়ের বিধায়ক

প্রতিমাসে প্রায় ৮২ হাজার টাকা বিধায়ক হিসাবে পাবেন চন্দনা। এই টাকার পরিমাণ শুনে যথেষ্ট অবাক হয়েছিলেন ছাপোষা নিম্নবিত্ত পরিবারের এই গৃহবধূ। তিনি বলেছেন, “এত টাকা আমাদের কাজে লাগবে না। আমরা সাধারণভাবে জীবন যাপনে অভ্যস্ত।

আমার গাড়ির দরকার নেই, আমার সাইকেল আছে, স্বামীর মোটরসাইকেল আছে ওতেই আমাদের চলে যাবে। টিভি কেনার বা বাড়ি বানানোর বর্তমানে আমার কোন ইচ্ছা নেই। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি বানানোর টাকা পেয়েছি ওতেই আমি বাড়ি বানাবো। ‌ অত টাকা আমার প্রয়োজন নেই বরং ওই টাকা দিয়ে আমি আমাদের এখানে রাস্তাঘাট মেরামত করব, পানীয় জলের সংকট দূর করব।

আরও পড়ুন-“বছরের দুই কিস্তিতে পাওয়া যাবে ১০ হাজার টাকা।”- কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ভাতা বৃদ্ধি করলেন মুখ্যমন্ত্রী

আমার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখাবো। শুভেন্দু অধিকারী একজন ভালো জননেতা। ‌ উনার উপর আমার খুবই ভরসা রয়েছে। আমার বেতনের টাকা কিভাবে খরচ করব, উনার থেকে এই বিষয়ে পরামর্শ নেব।”

Related Articles

Back to top button