নিজেই অসু’স্থ, তরুণ চিকিৎসক সুমন সন্নিগ্ৰহী নিজের বাঁ হাতে সেলাইন দিয়েই ব্যাস্ত রোগী দেখতে, ভাইরাল ভিডিও!

মৃন্ময় দে, কলকাতা: ওনারা ডাক্তার। ওনাদের দ্রুত মানুষের সেবা করা। সমাজে ভগবানের ঠিক পরেই ওনাদের স্থান। ‌ কারণ অনেক সময় ভগবানের মতন ডাক্তাররা রোগীর প্রাণ ফিরিয়ে দেন।আবার মুদ্রার উল্টো পিঠে রয়েছে অপর চিত্র। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে ডাক্তারদের থেকে অসহযোগিতার। অনেক ডাক্তাররা কেবলমাত্র রোগীদেরকে পয়সা উপার্জনের অবলম্বন ভাবে। সেই সমস্ত ব্যক্তিদের কাছে চিকিৎসা একটি ব্যবসা মাত্র সেবা নয়

এবার এমনই একজন ভগবান সমতুল্য ডাক্তারের দেখা মিলল আমাদের রাজ্যের বাঁকুড়ায়।বাঁকুড়ার খাতড়া ব্লকের সিমলা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক সুমনবাবু। পুরো নাম ডাঃ সুমন সন্নিগ্রহী। সুমন বাবু যে কর্তব্যপরায়ণতা দেখিয়েছেন তাই রাজ্যের অন্য সমস্ত ডাক্তারদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকা উচিত।

আরও পড়ুন- ফের নিম্মচাপের ধাক্কা বাংলায়, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিলো আবহাওয়া দপ্তর

ঠিক কী ঘটেছিল শনিবার? খাতড়া মহকুমা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, শনিবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আউটডোরে ডিউটি ছিল চিকিৎসক সুমন সন্নিগ্রহীর। সকালে কাজে এসে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডিহাইড্রেশন জনিত সমস্যা হচ্ছে, বুঝতে পেরে সুমনবাবুকে স্যালাইন দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আউটডোরে শতাধিক রোগী চিকিৎসার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। এত রোগীকে একসঙ্গে দেখে সুমনবাবু আর বিশ্রাম নেননি।

বাঁ হাতে স্যালাইন নিয়েই আউটডোরে চিকিৎসকের চেয়ারে বসে রোগী দেখতে আরম্ভ করেন। প্রায় ছ’ঘন্টা ধরে দু’শোর বেশি রোগীকে দেখেন তিনি। একদিকে, তাঁর বাঁ হাতে স্যালাইন চলছে, অন্যদিকে, ডান হাতে লিখে চলেছেন প্রেসক্রিপশন।তাঁর এই ভূমিকায় খুশি এবং আশ্চর্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রোগী থেকে স্বাস্থ্যকর্মী – সকলেই।“ডাক্তারবাবু এক হাতে স্যালাইন নিয়েও আমাদের ডেকে রোগের কথা শুনে চিকিৎসা করেছেন। ডাক্তারবাবুর এমন কাজে আমরা অভিভূত। ডাক্তারবাবু দেবতাতুল্য মানুষ” ঠিক এমনই কথা শোনা গেল হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসা এক মহিলার মুখে।

আরও পড়ুন- ১৯১৮ সালে হারিয়েছিলেন স্প্যানিশ ফ্লু-কে, এবার করোনাকে জয় করলেন ১০৬ বছরের বৃদ্ধ!

চিকিৎসক সুমনবাবু বলেন, “গত দু’দিন ধরে নাইট ডিউটি ছিল। তারপর শনিবার আউটডোরে ডিউটি ছিল। করোনা সংক্রমণের জেরে এখন আমাদের সব সময় মাস্ক এবং গ্লাভস পরেই কাজ করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে গত দু’দিনের আবহাওয়া একটু উষ্ণ ছিল। ফলে শরীরে ডিহাইড্রেশন শুরু হয়। শারীরিক অসুবিধা বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে স্যালাইন নিই। কিন্তু আউটডোরে এত রোগী লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেনদেখে ওই অবস্থায় আমি ডিউটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

এনাদের অধিকাংশই অনেক দূর থেকে এখানে চিকিৎসা করাতে এসেছেন”।সিমলার BMOH তথা খাতড়া মহকুমা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার তাপসকুমার মণ্ডলের কথায়, “শনিবার সুমনবাবুর স্যালাইন হাতে নিয়ে যেভাবে রোগীদের চিকিৎসা করেছেন তার সঠিক প্রশংসা করার মত ভাষা আমার নেই। উনি অত্যন্ত কর্তব্যপরায়ণ। তাই অসুস্থ হয়েও চিকিৎসা পরিষেবা দিয়েছেন। ওনার এই কাজে আমরাও গর্বিত।” bengali love shayari

সিমলা BPHC তে ডঃ সুমন সন্নিগ্ৰহী হাতে সেলাইন নিয়ে রোগীদের পরিসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন।

Posted by Amitabha Patra on Saturday, July 4, 2020

এখানে আপনার মতামত জানান