করোনা সংক্রমনের পরিসংখ্যানের উপর নজর রেখে বাংলায় ভোট সফর বাতিল করলেন রাহুল গান্ধী!

করোনা সংক্রমনের পরিসংখ্যানের উপর নজর রেখে বাংলায় ভোট সফর বাতিল করলেন রাহুল গান্ধী!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-করোনাভাইরাস এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের তাণ্ডবের জেরে ক্রমাগত দেশের পরিস্থিতি সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্য আর কোন উপায় না থাকায় লকডাউন এর পথে হেঁটেছে। এরমধ্যে রয়েছে সবার প্রথমে মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাম। এছাড়াও ছত্রিশগড় ,মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান প্রভৃতি রাজ্যগুলিতেও লকডাউন জারি করা হয়েছে। দেশের পাঁচটি রাজ্যের এই মুহূর্তে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

এই রাজ্যগুলির মধ্যে সবথেকে হাই ভোল্টেজ ভোটগ্রহণ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। তাই ভাইরাসের এই সংকটজনক পরিস্থিতির মধ্যেও ভোটের প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন রাজনৈতিক দলের নেতা মন্ত্রীরা। যার ফলস্বরুপ অত্যন্ত চিন্তায় রয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।মিছিল সমাবেশ এবং জনসভা নিয়মিতভাবে করা হলেও সেখানে কোনো রকম সামাজিক দূরত্ব বৃদ্ধি এবং সতর্কতা অবলম্বনের উপায় নেই।

গতকাল রবিবার পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৪১৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। কিন্তু তা সত্বেও কোনরকম হেলদোল নেই মানুষের মধ্যে।যদিও কিছুদিন আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভোট প্রচার সম্পর্কে জানিয়েছিলেন যদি কোন রাজ্য চায় তাহলে অন্তর্বর্তী ভাবে লকডাউন জারি করতে পারে।কিন্তু একথা মানতে একেবারেই নারাজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মমতা জানিয়েছিলেন,ওরা লকডাউন করার মাধ্যমে প্রচার বন্ধ করে দিতে চায় তাই এই ধরনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তারপর আর বিশেষ কোনও কথা ওঠেনি এই প্রসঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই বাংলায় ভোট সফর বাতিল করে দিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। গতকাল এক টুইটের মাধ্যমে কংগ্রেসের এই নেতা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত ভোট সফর বাতিল করেছেন তিনি।রাহুলের এই টুইট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই যারপরনাই প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক মহলে।

যেখানে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতা মন্ত্রীরা শুধুমাত্র ভোটের প্রচার কাজকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন সেখানে এই ধরনের মন্তব্য করে রীতিমতো নজির সৃষ্টি করে ফেলেছেন রাহুল গান্ধী।নির্বাচনের থেকে যে অধিক বেশি গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ মানুষের জীবন তা তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন।এদিন শুধুমাত্র নিজের টুইটের মাধ্যমে বঙ্গ সফর বাতিল করার কথাই নয় প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই প্রচার কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি দিন কয়েক আগে ভাইরাসের সংক্রমনের উপর নজর রেখে তৃণমূলের তরফ থেকে শুধু বলা হয়েছিল, করোনার কথা মাথায় রেখে তারা চায় বাকি তিন দফার ভোট যাতে এক দফায় করে দেওয়া যায়। যদিও নির্বাচন কমিশন সেই কথায় কোনও কর্ণপাত করেনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে মানুষের সুরক্ষা কিভাবে সম্ভবপর হবে! যে হারে দেশে আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ছে তাতে যে কোন মুহূর্তে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।