নিউজপলিটিক্সরাজ্য

ভুয়ো ভ্যাকসিনের ঘটনায় দেবাঞ্জনের আরো তিন সঙ্গীকে গ্রেফতার করলো পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদন: টাকার লোভে মানুষ যে কতটা পিশাচ হতে পারে তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হল দেবাঞ্জন। কসবার ভুয়ো ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প চালিয়ে যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর তৎপরতায় ধরা পড়েছে দেবাঞ্জন। কিন্তু তার প্রতারণার গভীরে যত পৌঁছাচ্ছে পুলিশ ততই তারা রীতিমত অবাক হয়ে যাচ্ছে। কলকাতা পুরসভার ভুয়ো হলোগ্রাম ব্যবহার করে কিভাবে এসে একের পর এক প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল তা স্তম্ভিত করেছে দুঁদে অফিসারদের।

নিজেকে আসল প্রমান করতে সব সময় প্রভাবশালী মহলের সাথে যোগাযোগ রাখতেন দেবাঞ্জন। প্রাক্তন এক বিএসএফ অফিসার কে নিজের সর্বক্ষণের সিকিউরিটি নিয়োগ করেছিলেন দেবাঞ্জন। এছাড়াও প্রতি মাসে ৫২ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ইনোভা নীলবাতি গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়াতেন দেবাঞ্জন। কসবার অফিসটি একদম পুরসভার আদলে সাজিয়েছিলেন দেবাঞ্জন।

আরও পড়ুন-দেবাঞ্জনের অফিসে থাকতো কড়া নিরাপত্তা । অফিসে ঢুকতে গেলে বন্ধ করে দিতে হতো মোবাইল।

সমস্ত জায়গায় পুরসভার জাল নথিপত্র ব্যবহার করতেন তিনি। কসবার নিউমার্কেটের পাশের বহুতলে তার অফিস দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে এটা কলকাতা পুরসভার নকল অফিস। ‌ রীতিমতো সাজানো-গোছানো ছিল তার অফিস, অফিসের ভিতরে ছিল ফিরহাদ হাকিম এর বড় ছবি। এছাড়াও জাল নথি ব্যবহার করেই ইনোভা গাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন দেবাঞ্জন।

আরও পড়ুন-“সেন্সর বোর্ডের পাস করা ডায়লগ বলা অপরাধ কিভাবে হয়?”- প্রশ্ন করলেন মিঠুনের আইনজীবী

এছাড়াও কলকাতা পুলিশ দেবাঞ্জন এর আরো তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের আজ আলিপুর আদালতে তোলা হবে। তাদের মধ্যে একজন হল শান্তনু মান্না যে দেবাঞ্জনের হয়ে ভুয়ো ভ্যাকসিন ক্যাম্পের আয়োজন করত। বাকি দুজন হলো রবিন শিকদার এবং শান্তনু দাস।

এরা কেএমসির নামে বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতো। জাল টীকা দেওয়ার জন্য মোট ১৩ জনের দল ছিলো দেবাঞ্জনের। ১৩ জনের মধ্যে এখনো পর্যন্ত ১১ জনের চিহ্নিতকরণ হয়ে গিয়েছে। ওই কর্মীরা স্বাস্থ্য পরিষেবার সাথে যুক্ত কিনা সেই ব্যাপারে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

Related Articles

Back to top button