করোনা আবহে কোনো সংস্থারই স্পনসর পেলোনা পাকিস্তান ক্রিকেট দল, শেষে দুঃখে এ কি করলো আফ্রিদি?

করোনা মানুষকে দেখিয়েছে বাস্তবের এক অন্ধকার চিত্র। এক লহমায় মানুষের দৈনন্দিন চেনা ছবিটা পাল্টে দিয়েছে এই মা-র-ণ রোগ। অনেকেই আজ রুজি রোজগারের সংস্থান হারিয়ে দূর্দশার চরম সীমায় নেমে গিয়েছেন। করোনার গ্রাসের বলি হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তাঁদের পরিবার উজাড় হয়ে গিয়েছে। অনেকেই তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন।

সংসার ভে-ঙে পড়েছে অনেকের‌ই। করোনার এই আবহে লকডাউনের ফাঁদে পড়ে অনেক মানুষের আজ দুবেলা দুমুঠো খাবার‌ও জুটছে না। আজ মানুষ শুধুমাত্র একটু কোনোরকমে বাঁচতে চাইছে। চারদিকে দেখা দিয়েছে ধ্বং-সে-র একটি করাল‌ ভ-য়-ঙ্ক-র রূপ। মৃ-ত্যুমিছিল চলছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে। ভারতের পাশাপাশি তার প্রতিবেশী দেশগুলোর হাল‌ও খুব একটা ভালো নয়।

ভেঙে পড়ছে অর্থনৈতিক পরিকাঠামো। বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ড গুলিও চরম দূর্দশার মধ্যে পড়েছে। স্পনসর পাওয়া দু-ষ্ক-র হয়ে উঠেছে ক্রিকেট টিম গুলির। এরকমই অবস্থা পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের‌ও। স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো ক্ষেত্রেই মিলছে না স্পনসর। আগামী সিরিজে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলবে পাকিস্তান দল। কিন্তু চূড়ান্ত দূর্দশা পাকিস্তান টিমে।

আরও পড়ুন – লকডাউনের মধ্যে ফের উঠতি সোনার সহ রান্নার গ্যাসের দামে, কলকাতার বাজারে আজকের পেট্রোল ও রুপোর দাম কত? জেনে নিন

এখনও পর্যন্ত স্পনসর জোগাড় করতে পারেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তাই তারা বাধ্য হয়ে প্রাক্তন অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদির সংস্থা ‘শাহিদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশন’ এর লোগো ব্যবহার করবে। কিন্তু এর জন্য পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড পাবেনা কোনো টাকাই। উল্টে লাভের মুখ দেখবে আফ্রিদির সংস্থা। এই সংস্থা আবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চ্যারিটি পার্টনার।

আফ্রিদির সংস্থাটি পাকিস্তানের জার্সিতে নিজেদের লোগো ব্যবহার করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা পাকিস্তানিদের থেকে চাঁদা তুলতে পারবে । পাক বোর্ডের আর্থিক অবস্থা বর্তমানে খুব খারাপ। এতদিন শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটের সম্প্রচারের স্বত্ব ছিল টেন স্পোর্টস চ্যানেলের হাতে। যা কিনা এই চলতি বছরেই শেষ হতে চলেছে।

আরও পড়ুন – ফের শুরু কড়া লকডাউন, কতদিন চলবে এই কড়া লকডাউন? স্পষ্ট জানালেন মমতা

সবরকমের ক্রিকেট বন্ধ থাকার দরুন এই দেশগুলি নতুন কোনও সংস্থার সঙ্গে ক্রিকেট সম্প্রচারের চুক্তি করে উঠতে সক্ষম হয়নি। ফলে এই ক্রিকেট বোর্ডগুলির ইনকামের প্রধান উৎসইগুলোই বন্ধ হয়ে রয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ক্রিকেটারদের বেতন এবং কর্মীদের বেতন, সমস্ত রকম পরিকাঠামোতে খরচ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি অত্যধিক। তার কারণ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের আয়ের অন্যতম উৎস পাকিস্তান সুপার লিগ এবার অসম্পূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়েছে। পাক বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এই বছরে যে এশিয়া কাপ হওয়ার কথা ছিল সেটাও করোনার আভহে বাতিল হয়েছে। এবার শোনা যাচ্ছে, পিসিবি এখন যে কোনো স্পনসরের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই তারা অন্তত ৩০% থেকে ৪০% টাকা কম দিতে চাইছে। তাই অত্যন্ত সমস্যায় পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

এখানে আপনার মতামত জানান