লাগামছাড়া করোনা সংক্রমণ রাজ্য জুড়ে;২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ হার পৌঁছল ১১ শতাংশের কাছাকাছি!

লাগামছাড়া করোনা সংক্রমণ রাজ্য জুড়ে;২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ হার পৌঁছল ১১ শতাংশের কাছাকাছি!

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিশেষজ্ঞদের দাবি অনুযায়ী এপ্রিল মাসের মধ্যভাগ আসতে না আসতেই করোনা সংক্রমণ পৌঁছে গেল লাগামছাড়া অবস্থায়। ইতিমধ্যেই গতকাল দেশজুড়ে শুরু হয়েছে টিকা উৎসব। কিন্তু দেখতে গেলে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জায়গাতেই করোনা টিকা প্রায় নেই বললেই চলে। যার ফলস্বরুপ বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন চিকিৎসকেরা।কারণ ভ্যাকসিন এর ফলে করোনার সংক্রমণ সম্পূর্ণভাবে কম না হলেও কিছুটা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ছিল মানবদেহে। প্রসঙ্গত দেশের বেশ কয়েকটি জায়গাতে ভ্যাকসিন এর সম্পূর্ণ ডোজ নেওয়ার পরেও আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে মানুষজনকে।

এমনকি অনেক জায়গাতেই ভ্যাকসিনের পরেও মৃত্যু ঘটছে সাধারণ মানুষের। বর্তমানে দেশে ভাইরাস আক্রান্ত দৈনন্দিন রোগীর সংখ্যা প্রায় পৌঁছে গিয়েছে দেড় লক্ষ্যের উপর। বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনের প্রতি নজর রাখলে জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই এই সংখ্যা দুই লক্ষ পার করে যেতে পারে।যার ফলস্বরূপ সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে এরই মধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্য যেমন মহারাষ্ট্র ,ছত্রিশগড়, মধ্যপ্রদেশ প্রভৃতি লকডাউন এর পথে হেঁটেছে।

আরও পড়ুন –“নন্দীগ্রামে ক্লিন‌ বোল্ড তৃণমূল”- জনসভা থেকে হুঙ্কার মোদীর

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য আপাতত লকডাউন সম্ভবপর নয়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকটের দিকে লক্ষ্য রাখলে গোটা ভারতবর্ষ কেও গত বছরের মতন লকডাউন করা যাবে না। এই পরিস্থিতিতে অনেকটাই সংকটজনক হয়ে উঠেছে দেশের জনগণের জীবনযাত্রা। আসুন আর দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক গতকাল রবিবারের দৈনন্দিন পরিসংখ্যান।

গতকাল রবিবার ২৪ ঘন্টায় এই রাজ্যে নতুন করে করোনা সংক্রামিত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৯৮ জন। এই পরিসংখ্যান যোগ করার পরে মোট ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬ লক্ষ্য ১৪ হাজার ৮৯৬ জন। উল্লেখ্য শনিবার দৈনন্দিন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৪৩ জন। আক্রান্তের পাশাপাশি গতকাল দৈনন্দিন মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে, যার ফলে রাজ্যে এনিয়ে মোট মৃত্যু হল ১০ হাজার ৪০০ জন।

রবিবার মৃতদের মধ্যে ৫ জনই উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা। ৩ জন কলকাতার। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বীরভূমে ১ জন করে আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে।অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল পশ্চিমবঙ্গে নমুনা পরীক্ষা সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। রবিবার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪০ হাজার ৩৭২ জনের।

এই নমুনা পরীক্ষার পরে সংক্রমণ হার দাঁড়িয়েছে ১০.৮৯ শতাংশ। তৃতীয় দফায় গতকাল করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন ২ লক্ষ্য ১৭ হাজার ১৬ জন। আক্রান্তের নিরিখে রবিবার শীর্ষস্থানে রয়েছে কলকাতা। এদিন কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছেন ১,১০৯ জন। এরপর যথাক্রমে উত্তর ২৪ পরগনাতে ১০৪৭, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৮৮, হাওড়াতে ২৯৩,হুগলিতে ২১০ জন ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন।