নিউজপলিটিক্সরাজ্য

“বেশী সময় নেই। কবে জয়েন করাবে তোমরা?” – বাবুল সুপ্রিয় প্রকাশ করলেন মুকুলের বিজেপিতে যোগদানের পূর্বেকার ইঙ্গিত।

নিজস্ব প্রতিবেদন: গত শুক্রবার বিজেপি ছেড়ে আবার তৃণমূলে ফিরেছেন মুকুল রায়। জল্পনা চলছিলো অনেকদিন থেকেই। গত ২০১৭ তে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন মুকুল রায় । কিন্তু তাঁকে বিজেপিতে কখনোই অতি সক্রিয় ভাবে দেখা যায়নি।

এছাড়াও একুশের ভোট প্রচারেও তাঁর উপস্থিতি ততটা সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি। কয়েকদিন আগেই তাঁর অসুস্থ স্ত্রীকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন। তাঁর পর থেকেই তৃণমূলে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা জোরদার হয়েছিলো। মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় কয়েকদিন আগেই বিজেপিকে আত্মসমালোচনার পাঠ দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন-রাজ্যে হিংসার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যপালের সাথে রাজভবনের বারান্দায় সাক্ষাৎ করলেন ৫০ জন বিজেপি বিধায়ক

এছাড়াও অনেক আগে থেকেই মুকুল রায়ের বেসুরো মনোভাব নজর এড়ায়নি কারোর‌ই। অবশেষে সমস্ত জল্পনা সত্যি করে তৃণমূলে ফিরেছেন মুকুল রায়। এর সাথেই বিজেপি নেতা নেত্রীরা তীব্র আক্রমণ করেছেন মুকুল রায়কে। বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ মুকুল‌ রায়কে ‘মীরজাফর’ বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় মুকুল‌ রায়কে একহাত নিয়েছেন। তিনি বলেছেন,”রাজ্যসভার তৃনমূল সদস্য থাকার সময় সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে মুকুল রায় প্রশ্ন করতেন , ‘কবে জয়েন করাবে তোমরা বিজেপি তে ? সংগঠনটা বানাতে হবে তো? আজ যখন বিজেপির ছেলেদের উপর চারদিকে অত্যাচার হচ্ছে তখন সাদা পাঞ্জাবিতে রক্তের দাগ ধুয়ে তৃণমূলের সাথে কোলাকুলি করছেন মুকুল রায়। উনার মত সিনিয়র নেতাদের এটা মানায় না।

আরও পড়ুন-শুভেন্দু অধিকারী কে আইনি নোটিশ দিলো গরু পাচারে অভিযুক্ত বিনয় মিশ্র।

আরো কয়েকদিন অপেক্ষা করতে পারতেন। উনি দলবদল করেছেন তাতে কোন অসুবিধা নেই। রাজনীতিতে এটা সবসময় হয়েই থাকে। আমার সাথে উনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক যথেষ্ট ভাল ছিল।

এখনো যদি উনার সাথে সামনাসামনি দেখা হয় তাহলে কখনই অসম্মানজনক কোন কথা বলবো না। উনি আমার থেকে অনেক সিনিয়র। কিন্তু উনার মত একজন সিনিয়র নেতা মিথ্যা কথা কেন বলছেন? যেটা ঘটেনি সেই কথাটি বলে সাম্প্রদায়িক আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করছেন কেন ?

আরও পড়ুন-মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

ভোট পরবর্তীকালে কতগুলি রাজনৈতিক খুন হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় , সেই সম্পর্কে উনি কি জানেন? যে যুবক যুবতী দলীয় কর্মীদের পিঠে হাত দিয়ে কথা বলেছেন সেই হাতের রং বদল করেছেন তাতে কোন সমস্যা নেই, কিন্তু সেই যুবক যুবতীদের পিঠে কেন ছুরি মারছেন তিনি? মিথ্যা কথা কেন বলছেন? এটা সম্পূর্ণ অন্যায় বাংলার খুনের রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়টি অত্যন্ত নির্মম।”

Related Articles

Back to top button