‘মোদী—অমিত শাহ আপনারা খুনি‌, আপনাদের দু’‌জনের হাতে রক্ত লেগে আছে’; শীতলকুচি ঘটনায় মন্তব্য করলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন!

‘মোদী—অমিত শাহ আপনারা খুনি‌, আপনাদের দু’‌জনের হাতে রক্ত লেগে আছে’; শীতলকুচি ঘটনায় মন্তব্য করলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-গতকাল চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পর থেকেই কোচবিহারের শীতলকুচির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে সারা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ক্রমাগত রাজনৈতিক দলের নেতারা একে অপরকে উদ্দেশ্য করে নানান ধরনের আক্রমনাত্মক মন্তব্য করে চলেছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গতকাল পরপর শীতলকুচিতে গুলি চালানোর ঘটনায় ৫ জন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে।প্রথমে এক নতুন ভোটার লাইনে ভোট দিতে আসলে হঠাৎ করেই তার গায়ে গুলি লাগে।

আনন্দ বর্মন নামে ওই মৃত যুবক এই প্রথমবারই ভোট দিচ্ছিলেন।এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা করলে বাহিনীর জওয়ানদের চালানো গুলিতে ৪ কেরল থেকে আসা যুবকের মৃত্যু ঘটে।দুটি ঘটনাতেই ক্রমাগত তৃণমূল নেতারা গেরুয়া শিবিরকে দায়ী করে গিয়েছেন। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বার্তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

তাই যত শীঘ্র সম্ভব অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিত।ঠিক অপরদিকে কৃষ্ণনগরের এক জনসভা থেকে পাল্টা মমতাকেই আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তার কারণ চতুর্থ দফার ভোটের প্রচারে গিয়ে দিদি নিজেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করার কথা বলেছিলেন। এমতাবস্থায় বিরোধী শিবিরকে আক্রমণ করে এবার মুখ খুললেন তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন।এদিন টুইটারে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দীর্ঘ বার্তা দিয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েন লেখেন,”যখন আপনারা স্বচ্ছভাবে লড়তে পারেননি, তখন গুলি করে হত্যা করেছেন৷

আরও পড়ুন-‘মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করার অভ্যাস মমতার অনেক পুরনো’; মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান!

মোদি-শাহ আপনারা খুনি৷ আপনাদের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজিকে সরিয়েছে। তাছাড়া যেখানে আজ ৫ জনকে হত্যা (কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে চারজনের মৃত্যু হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে) করা হয়েছে, সেখানকার পুলিশ সুপারকেও বদলি করে দেওয়া হয়েছে৷মোদি-শাহ মরিয়া হয়ে উঠেছেন৷ আপনারা ঠগ৷ যদি ৫ জনের প্রাণ যথেষ্ট না হয়, তাহলে আরও তিনজনকে গুলি করুক কেন্দ্রীয় বাহিনী৷

এটাই আপনাদের সোনার বাংলা! এর জন্য বাংলা আপনাদের কখনও ক্ষমা করবে না”। প্রসঙ্গত আপাতত কোচবিহারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্য নেতা — নেত্রীদের পদার্পণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ঘটনার সম্পূর্ণ রিপোর্ট তলব করার পাশাপাশি আগামী ৭২ ঘণ্টা কোচবিহারে রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রবেশ করতে পারবে না বলেই জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে।