স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের ভিত্তিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা করতে নারাজ বহু হাসপাতাল।

স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের ভিত্তিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা করতে নারাজ বহু হাসপাতাল।

নিজস্ব প্রতিবেদন: একুশের বিধানসভা ভোটে জনমোহিনী প্রতিশ্রুতি গুলির উপর ভিত্তি করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, ‘দুয়ারে সরকার’, ‘দুয়ারে রেশন’, ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্প গুলির দ্বারা এবারের ভোটে অনেকটাই সাফল্যের মুখ দেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বারবার স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের উল্লেখ করেছেন যে এই কার্ডের ধারক নিজে এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্য বছরে ৫ লক্ষ টাকার মেডিকেল পরিষেবা নিতে পারবেন। অর্থাৎ যে যে হাসপাতাল গুলিতে এই কার্ডের সুবিধা রয়েছে, সেই সেই হাসপাতালগুলিতে বছরে ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা করাতে পারবেন স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের ধারকেরা এবং তাঁর পরিবারের লোকজন।

আরও পড়ুন-পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দিতে ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে, “রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালকে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর আওতায় করোনা রোগীদের ভর্তি নিতে হবে। যদি হাসপাতালগুলি এই নির্দেশিকা অমান্য করে তাহলে হাসপাতালের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”কিন্তু জানা গিয়েছে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের নিরিখে করোনা চিকিৎসায় রাজী হচ্ছে না।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত মার্চ মাস থেকে কত মে মাস পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার বাংলার মানুষ স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে করোনার চিকিৎসা করিয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতাল গুলি থেকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে , স্বাস্থ্য সাথীর কার্ডে চিকিৎসা করতে রাজী হচ্ছে না বেশ কিছু বেসরকারী হাসপাতাল এবং নার্সিংহোম গুলি। যার ফলে রীতিমতো সমস্যায় পড়েছেন মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষগুলো।

আরও পড়ুন-“আলাপন বাঙালি , কিন্তু দময়ন্তী সেন কি বহিরাগত ছিলেন?”- মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্নবান সোশ্যাল মিডিয়ায়

এই বিষয়ে শ্রমজীবী হাসপাতালে এক মুখপাত্র বলেছেন, “বর্তমানে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে করোনা চিকিৎসায় ভর্তি নিচ্ছি না। তার কারণ এই কার্ডের পোর্টালে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। নাম এন্ট্রি করা যাচ্ছে না।”এছাড়া রুবি হাসপাতাল জানিয়েছে, “আমাদের সাথে এই কার্ডের শুধুমাত্র ক্যানসারের চিকিৎসা করার চুক্তি রয়েছে।”বিখ্যাত হাসপাতাল অ্যাপোলো জানিয়েছে যে, “এই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে করোনার কোন অন্তর্ভুক্তিকরণ নেই।

যার ফলে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে আসা করোনা রোগীদের চিকিৎসা করা সম্ভব নয়।”এছাড়াও আরেক নামকরা হাসপাতাল মেডিকা’র এক চিকিৎসক বলেছেন, “স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে করোনা চিকিৎসার যে খরচ উল্লেখ করা হয়েছে তা প্রথম সারির ১০০ টির বেশি শয্যাযুক্ত হাসপাতালে পক্ষে উপযুক্ত পরিষেবা দেওয়া সম্ভবপর নয়।“এই বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী বলেছেন , “যদি কোনো হাসপাতাল স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিতে অস্বীকার করে তাহলে স্বাস্থ্য দপ্তরে অভিযোগ জানাবেন। “