‘মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করার অভ্যাস মমতার অনেক পুরনো’; মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান!

‘মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করার অভ্যাস মমতার অনেক পুরনো’; মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দফার ভোটগ্রহণের পর গতকাল শনিবার ১০ ই এপ্রিল অনেকটা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে দিয়েই চতুর্থ দফার ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সমাপন হলো। কিন্তু সকালবেলায় ভোট গ্রহণ পর্ব শুরু থেকেই বিভিন্ন জায়গায় বোমাবাজি, মারধর থেকে শুরু করে গুলি চালানোর খবর সামনে আসছিল।শেষ পর্যন্ত কমিশনের চিন্তাভাবনাকে সত্যি করে কোচবিহারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রথমে কোচবিহারের পাঠানপুলি এলাকায় হঠাৎ করে এক ১৮ বছর বয়সী যুবক নতুন ভোটার আনন্দ বর্মন এর দুই রাজনৈতিক দলের লড়াইয়ে গুলি চালানোর ঘটনায় মৃত্যু হয়।

যদিও পরিবারের তরফে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু শেষপর্যন্ত তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো বেলা বাড়ার সাথে সাথেই কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকার মাথাভাঙ্গার জোরপাটকিতে হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাথে স্থানীয় গ্রামবাসীদের বচসা শুরু হলে তারা একসাথে ৩০০—৪০০ জন মিলে বাহিনীর অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে গুলি চালাতে বাধ্য হন বাহিনীর জওয়ানরা। এমতাবস্থায় হঠাৎ করেই কেরল থেকে বাংলায় ভোট দিতে আসা চার যুবকের মৃত্যু ঘটে। তড়িঘড়ি তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও প্রাণে বাঁচানো যায়নি।সম্পূর্ণ ঘটনাকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা বিজেপির পরিকল্পনামাফিক চক্রান্ত বলেই অভিহিত করেছেন। এমনকি স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনায় সোজাসুজি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন।

আরও পড়ুন-সকল নেতা নেত্রীদের কোচবিহারের ঢোকার উপর ৭২ ঘন্টার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি কমিশনের!

মমতার দাবি অনুসারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই এমন কাজ করতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।গতকাল টুইট থেকে শুরু করে জনসভা সব জায়গাতেই মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকায় মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী করেছেন।শেষ পর্যন্ত এই ঘটনায় মুখ খুলতে বাধ্য হলেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। শনিবার আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে আব্দুল মান্নান কটাক্ষ করে বলেন,”মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করার অভ্যাস মমতার অনেক পুরনো।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করা মানে আগুনে ঘি ঢালা। আশাকরি মমতা এই কাজ করা থেকে বিরত থাকবে”।পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করলে আব্দুল মান্নান মমতাকে আক্রমণ করে বলেন,”নিজের কাঁধ থেকে দোষ ঝাড়তে এই কথা বলছে মমতা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই কাজ করার জন্য উস্কানি দিয়েছেন”।

শুধুমাত্র মমতাকে নয় এদিন বিজেপি-কেও আক্রমণ করেন মান্নান।তিনি বলেন,”বিজেপি চাইছে তাঁদের পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ভোট করাতে। আর মমতা চাইছে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে। দুধ দুজনেই খাচ্ছে। তৃণমূল চুমুক দিয়ে খাচ্ছে আর বিজেপি স্ট্র দিয়ে খাচ্ছে। সেই কারণে বিজেপিরটা দেখা যাচ্ছে না। তৃণমূল চুমুক দিয়ে খাচ্ছে বলে, তাঁদেরটা গোঁফে লেগে থাকছে”।