‘কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করে অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন মমতা’; বক্তব্য অমিত শাহের!

‘কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করে অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন মমতা’; বক্তব্য অমিত শাহের!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতির পর শীতলকুচি কাণ্ডে এবার মুখ খুললেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রীর মতন এদিন শাহের গলাতেও একই সুর শোনা গেল মমতার বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত গতকাল চতুর্থ দফার ভোটের দিন শীতলকুচি এলাকার জোরপাটকিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা ঘেরাও করলে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হন।

এমতাবস্থায় হঠাৎ করেই তাদের গুলির আঘাতে কেরল থেকে বাংলায় ভোট দিতে আসা ৪ যুবকের মৃত্যু হয়।হাসপাতালে নিয়ে গেলেও রাজনীতির সঙ্গে কোনো রকম যোগ না থাকা ওই যুবকদের প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় আজ অমিত শাহ বলেন,”কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য হতাশাজনক।প্রথম তিন দফার শেষে আমরা ৬৫—৬৮ টি আসনে জিততে চলেছি।সেটা বুঝতে পেরে তৃণমূলের মনে হতাশা ফুটে উঠেছে।CRPF কে ঘেরাও করতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।অরাজকতা, হিংসা চান রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। উনি কখনোই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হতে দেবেন না।

হেরে যাবেন বুঝতে পেরে দুর্নীতি করে ভোটে জিততে চাইছেন। বিজেপিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকে”।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য চতুর্থ দফার আগে ভোটের প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় মানুষজনকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন,”বিজেপিকে হারিয়ে দিন। আমাদের বাংলায় সরকার বানাতে দিন। আপনাদের সমস্ত উন্নয়নের কাজ বজায় রাখুন। ভোটের আগে ওরা এলাকায় পুলিশ এবং বাহিনী নিয়ে গিয়ে ভয় দেখাবে। যদি আপনাকে কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনরকম ভাবে ভয় দেখায় তাহলে তাদেরকে ঘেরাও করুন।

আরও পড়ুন-ফের আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী;বীরভূমের ভাদুরিয়া গ্রামে প্রচারে যাওয়ার সময় গাড়ি ভাঙচুর করে বাঁধা!

সবাই মিলে একসাথে ঘেরাও করবেন না। একদল ঘেরাও করবেন ,একদল ভোট দিতে যাবেন। কারণ সবাই একসাথে ঘেরাও করলে ভোট দিতে অসুবিধা হবে। তখন ওরা সেটার সুবিধা ভোগ করবে।আমি পরিষ্কার বলছি কাউকে ভয় দেখালে কেউ-না-কেউ ছবি তুলবেন এবং তা ভাইরাল করে দেবেন। জানিয়ে দেবেন পুলিশ বা বাহিনী গিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। যদি কাউকে এরেস্ট করতে চায় তাহলে মা-বোনেরা শঙ্খ বাজাবেন।

যাতে সবাই বুঝতে পারে যে ওরা এসেছে আপনাদের ওপর অত্যাচার করতে”। কার্যত মমতার এই বক্তব্যের পরপরই তার কাছে নির্বাচন কমিশনের নোটিশ আসে।এমতাবস্থায় গতকাল শীতলকুচি কাণ্ডে স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীদের একাংশ তৃণমূল সুপ্রিমোকে দোষী সাব্যস্ত করতে শুরু করে দিয়েছেন।