নিউজপলিটিক্সরাজ্য

“অনেক দোকান, কিন্তু খদ্দের নেই”- এই ভাষাতেই সূর্যকান্ত মিশ্রকে চিঠি দিল সিপিএমের কৃষক নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদন: ৩৪ টা বছর বাংলাকে শাসন করেছে বামেরা। বামেদের আমলে যেমন কৃষি, শিক্ষা, শিল্পের জোয়ার দেখা গিয়েছিলো তেমনি তাদের কিছু বিষয় সাধারণ মানুষ মেনে নিতে পারেননি। দীর্ঘ ৩৪ বছর বাম জমানা শেষ হয় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির হাত ধরে। সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পর কার্যত বাম ব্রিগেড ধ্বংসের মুখে পড়ে।

যে বামপন্থা আদর্শ নিয়ে চলত সিপিআইএম সেই আদর্শ অনেকটাই ধাক্কা খায় যুব সমাজের কাছে। তারপর কেটে গিয়েছে দশ দশটা বছর । বাংলায় শুরু হয়ে গিয়েছে একুশের বিধানসভা নির্বাচন। বাংলার মানুষ বেছে নিতে চলেছেন তাদের মনোনীত মুখ্যমন্ত্রী কে।

আরও পড়ুন-“টম, ডিক, হ্যারিদের কথা শুনতে রাজী ন‌ই”- পরোক্ষভাবে অধীরের উদ্দেশ্যে তীর ছুঁড়লেন কংগ্রেস নেতা মান্নান

কিন্তু এবারে আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলো বামফ্রন্ট। কংগ্রেস এবং আইএসএফএর সাথে জোট করে যথেষ্ট শক্তিশালী রাজনৈতিক দল‌হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিলো তারা। এবারে বৃদ্ধ নেতা নেত্রীদের পিছনে রেখে সামনের সারিতে এগিয়ে এসেছিলো বামেদের তরুণ প্রজন্ম । এক ঝাঁক তরুণ মুখকে এবারে গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিলো বাম সংযুক্ত মোর্চা।

কিন্তু তা সত্ত্বেও একুশের নির্বাচনে জোর ধাক্কা খেয়েছে সিপিএম। নির্বাচনে রাজ্যে খাতাই খুলতে পারে না তারা। এই পরিপেক্ষিতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র কে কড়া ভাষায় ১১ টি হারের কারণ উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছে রাজ্যের কৃষক সংগঠনের নেতারা।এই চিঠিতে লেখা হয়েছে, “তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে বোঝাপড়ার এই বিজেমূল তত্ত্বটি জনগণের মধ্যে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

আরও পড়ুন-“নিরাপত্তা দিতে পারিনি কর্মীদের”- দিলীপ ঘোষের সুরে বললেন বাবুল সুপ্রিয়

তাছাড়া ভিক্ষা নয় , কাজ চাই এই শ্লোগানটিও যথেষ্ট সহায়ক হয়নি একুশের ভোটের আবহে। অনেক দোকান গড়ে উঠেছে কিন্তু সেই দোকানে খদ্দের জোটেনি। নিম্ন শ্রেণীতে কাজ করার মতো নেতৃত্ব এবং কর্মীর অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। আদিবাসী দলিত এবং তফসিলিদের বেশির ভাগ ভোট বিজেপির দিকে পড়েছে।

আরও পড়ুন-“হলদিয়ায় তৃণমূলের হার হয়েছে কেন?”- দুর্গাচকের মঞ্চ থেকে কুণাল ঘোষ দিলেন কড়া সতর্কীকরণ বার্তা।

আইএসএফের প্রচারে বলা হয়েছিল যে সংখ্যালঘু মুসলমান এবং মোট ৮ থেকে ৯ টি আদিবাসী তফসিলি সংগঠনের মধ্যে জড়িত রয়েছে । কিন্তু যখন প্রচার হয়েছে তখন দেখা গিয়েছে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী শুধুমাত্র প্রচার সভায় উপস্থিত রয়েছেন। তাই মানুষজন ধরে নিয়েছিল আমাদের এই সংযুক্ত মোর্চা শুধুমাত্র মুসলমানদের সংগঠন। তাই সংযুক্ত মোর্চাকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে মানতে রাজি হয়নি বহু মানুষ।”

Related Articles

Back to top button