নিউজপলিটিক্সরাজ্য

বিজেপিকে রোধ করতে তৃণমূলের সঙ্গে গাঁটছড়ায় রাজি বাম। ইঙ্গিত বিমান বসুর

নিজস্ব প্রতিবেদন: একটা সময় রাজ্যের অলিগলিতে শোভা পেতো বামেদের লাল পতাকা। সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পর কার্যত বাম ব্রিগেড ধ্বংসের মুখে পড়ে। যে বামপন্থা আদর্শ নিয়ে চলত সিপিআইএম সেই আদর্শ অনেকটাই ধাক্কা খায় যুব সমাজের কাছে। তারপর কেটে গিয়েছে দশ দশটা বছর ।

একুশের নির্বাচনে বাংলার মানুষ বেছে নিয়েছেন আবার তৃণমূলকেই। একুশের ভোটে বামফ্রন্ট বেশ কিছু তরুণ মুখগুলোকে প্রার্থী করে যথেষ্ট লড়াই করেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তবে এই লড়াইয়ে তাদের হারের মুখ দেখতে হয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে এই প্রথম বিধানসভায় একটাও বাম নেতা নেই।

আরও পড়ুন-ত্রিপুরায় বেআইনিভাবে আটক করা হল পিকের টিমের ২৩ সদস্যকে। কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন কুণাল ঘোষ।

বামফ্রন্টের জোটশরিক আইএস‌এফের ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী শুধুমাত্র জয়লাভ করেছেন।তবে রাজ্যে তো বটেই , সারা দেশের মধ্যেও সিপিএমের অস্তিত্ব যথেষ্ট সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে। সারা দেশের মধ্যে এদিকে বিজেপি বিরোধী প্রধান মুখ হিসাবে প্রতীয়মান হয়ে উঠছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সারা দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধী দলগুলির নেতারা মোদীর বিরোধিতায় একমাত্র শক্তিশালী মুখ হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেই বেছে নিতে চাইছেন।

আরও পড়ুন-আজ‌ই হতে চলেছে মোদী-মমতা বৈঠক। কি আলোচনা হতে চলেছে এই বৈঠকে? তুঙ্গে জল্পনা

এদিকে এর ফলে কার্যত প্রমাদ গুনছে সিপিএম। যার দরুণ এবার তৃণমূলের সাথে দেশে বৃহৎ জোটগঠনে সায় দিয়েছে বাম নেতৃত্ব‌ও। কংগ্রেস‌ও আগেই জানিয়ে দিয়েছে যে বিজেপি বিরোধিতায় তৃণমূলের সাথে তারা রয়েছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সুর্যকান্ত মিশ্র বলেই দিয়েছিলেন যে, রাজ্যস্তরে বামেদের সাথে তৃণমূলের সংঘাত চললেও , দেশীয় স্তরে বিজেপির বিরোধিতায় তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে রয়েছেন।

আরও পড়ুন-তৃণমূল কংগ্রেসের ‘খেলা হবে’ দিবসের পাল্টা ‘বাংলা বাঁচাও সপ্তাহ’ পালনের উদ্যোগ বিজেপির।

এদিকে এই পরিস্থিতিতে বাম চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেছেন, “বিজেপির চক্রান্ত করছে সারা দেশটাকে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য। ‌ বিজেপি সরকারের শাসন এছাড়া দেশের মধ্যে মানুষের দুঃখ দূর্দশা মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ‌ জনতার কল্যান বিরোধী এই সরকারকে অবশ্যই রোধ করতে হবে। ‌তাই সর্বভারতীয় রাজনীতির দিক থেকে বিবেচনা করলে বিজেপি বিরোধী জোট গুলিতে কে পাশাপাশি থাকলো সেটা কোনো বড় কথা নয়।

আপাতত আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বিজেপিকে প্রতিরোধ করা।”এর ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন নিজেদের অস্তিত্বকে যেভাবেই হোক ধরে রাখতে তৃণমূলকে জোট সঙ্গী হিসেবে চাইছে ভারতের বাম দল।

Related Articles

Back to top button