কুয়ো থেকে তোলা ১০৮ টি সোনার কলসির জলে স্নানযাত্রা শুরু হয় পুরীর জগন্নাথদেবের।

কুয়ো থেকে তোলা ১০৮ টি সোনার কলসির জলে স্নানযাত্রা শুরু হয় পুরীর জগন্নাথদেবের।

নিজস্ব প্রতিবেদন: আজ সকাল থেকেই ওড়িশার পুরীর মন্দিরে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা এবং রথযাত্রা উপলক্ষে প্রতি বছর পুরীর মন্দিরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। কিন্তু বর্তমানে ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতি সেই স্বাভাবিক চিত্রগুলি কে অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। আজ মন্দির চত্বরে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন না।

শুধুমাত্র মন্দিরের যে সমস্ত সেবাইতরা, পুরোহিতরা ভ্যাকসিন নিয়েছেন ,শুধুমাত্র তারাই প্রবেশ করতে পারবেন মন্দির চত্বরে। আজকের দিনে দেশ বিদেশের অসংখ্য দর্শনার্থীদের ঢল নামতো পুরীর মন্দির চত্বরে। কিন্তু করোনা আবহে এখন মন্দির চত্বরে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ। কড়া পুলিশী প্রহরায় আজ জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার আয়োজন চলছে।

আরও পড়ুন-বাংলার শিল্পীর তৈরি দুর্গা প্রতিমা পাড়ি দিচ্ছে কানাডায়।

জৈষ্ঠ্য মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্বয়ম্ভূ মনুর যজ্ঞের ফলে আবির্ভূত হয়েছিলেন প্রভু জগন্নাথ। তার পর থেকেই আজকের এই দিনটি প্রভু জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। রত্নবেদী থেকে নিয়ে এসে জগন্নাথদেবকে এই মহাস্নান করানো হয়। জগন্নাথ ,বলরাম, এবং সুভদ্রাকে পরপর পুষ্পাঞ্জলী দেন পুরোহিতরা ।‌

আরও পড়ুন-আজ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হল দক্ষিনেশ্বরের মায়ের মন্দির

তারপর তাদের স্নানবেদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর এই মন্দিরের দক্ষিণ দরজা লাগোয়া কুয়ো থেকে সোনার ১০৮ টি কলসিতে তোলা হয় জল। সেই জলেই স্নান করা হয় জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে। প্রভু জগন্নাথ দেব রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন কে আদেশ দিয়েছিলেন সে মহাস্নানের পরে তাঁর এই রূপ যেন কারো চোখে ধরা না পড়ে।

তাই এই স্নানযাত্রার পর থেকে টানা ১৫ দিন জগন্নাথ মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয়। এই দিনটিতে ওড়িশার মানুষ অনেকেই ভীড় করেন মন্দির প্রাঙ্গনে।