নিউজপলিটিক্সরাজ্য

“আইএস‌এফকে জোটসঙ্গী করে কি ঐতিহাসিক ভুল হল?” – সিপিএম রাজ্য কমিটির বৈঠকে উঠলো প্রশ্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদন: একুশের ভোটে বাংলা দখলের স্বপ্নে নিজেদের সংগঠনে এক ঝাঁক তরুণ মুখ গুলিকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল সিপিএম। আব্বাস সিদ্দিকীর আইএস‌এফ এবং কংগ্রেসকে জোট সঙ্গী করে একুশের ভোটে লড়াই করেছে সিপিএম। কার্যত সিপিএম নেতৃত্বের প্রথম থেকেই যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিল যে এবারে বাংলায় হয়তো কাস্তে হাতুড়ি কিছুটা হলেও সাফল্য পেতে পারবে। বর্তমান যুবসমাজ অনেকেই বামফ্রন্টকে সমর্থন করছেন।

সেই হিসেবে এবারের প্রথম থেকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন সিপিএম নেতৃত্ব। কিন্তু একুশের ভোট পরবর্তী সময়ে দেখা যায় বাংলায় একদম খাতায় খুলতে পারিনি সিপিএমের সংযুক্ত মোর্চা। আর সিপিএমের এই ভরাডুবির পরেই কংগ্রেস কর্মী সমর্থক রা পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর সাথে জোটের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আবার পীরজাদার সাথে জোট করা নিয়ে সিপিএমের অন্দরেও যথেষ্ট বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন-জম্মু-কাশ্মীরের সমস্ত রাজনৈতিক দলের সাথে আজ বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এই জোট করার জন্যেই বাংলায় সিপিএমের ভরাডুবি ঘটেছে এমনটাই দাবি করেছেন সিপিএমের জেলা কমিটির বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব এবং তামাম কর্মীসমর্থকরা। সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে একজন ধর্মগুরুর হাত কেন ধরা হলো, পীরজাদা কে নিয়ে এত মাতামাতিই বা করা হয়েছে কেন? এছাড়াও এই রাজ্য কমিটির বৈঠকে কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, আইএস‌এফের সাথে জোট করার সিদ্ধান্ত কারা নিয়েছেন? কোন যুক্তির ফলে তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন?

আরও পড়ুন-এবার বেসুরো হয়ে উঠলেন সিপিএম থেকে পদ্মফুলে আসা রিঙ্কু নস্কর।

বামেদের শরিক দলগুলি আগে থেকেই এই জোটের বিরোধিতা করেছিল। রাজ্য কমিটির বৈঠকে এই শরিকদলগুলো আবার প্রশ্ন তুলেছে জোটের প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে আবার হয়তো সিপিএম তাদের এই ঐতিহাসিক ভূল সর্বসমক্ষে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হবে।এক ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা বলেছেন, “একজন ধর্মগুরু কখনোই ধর্মনিরপেক্ষ হতে পারবেন না।

তিনি যেহেতু ধর্মগুরু তাই তার কাজ হলো ধর্ম প্রচার করা। তিনি কীভাবে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে ধর্ম নিরপেক্ষ ভাবে রাজনৈতিক কাজ সম্পাদন করবেন?”

Related Articles

Back to top button