এই নিয়মগুলো মেনে চললে কখনোই রুষ্ঠ হবেন না শনিদেব!জেনে নিন কি কি?

এই নিয়মগুলো মেনে চললে কখনোই রুষ্ঠ হবেন না শনিদেব!জেনে নিন কি কি?

নিজস্ব প্রতিবেদন:-আমরা যারা ভগবানে বিশ্বাসী তারা সবসময় নিজেদের ইষ্ট দেবতাকে খুশি রাখার চেষ্টা করি।তার জন্য কি প্রয়োজন আপনারা সকলেই কম বেশি জানেন।প্রথমত নিয়ম করে দেবতার পূজো এবং সমস্ত আচারবিধি পালন এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব দেবতাদের মধ্যে সবথেকে প্রভাবশালী ঠাকুর শনি দেবের কথা। সাধারণত সব জায়গাতেই শনিদেবের প্রকোপকে মানুষ ভয় পান। কিন্তু কেন মানুষের এতটা ভয় এই দেবতাকে।জ্যোতিষীদের মতে শনি গ্রহ কারোর উপর দৃষ্টি দিলে তার জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। আসুন জেনে নেওয়া যাক!

হিন্দু পুরাণগুলির প্রতি নজর রাখলে জানা যায়, বিশ্বকর্মার মেয়ে সঞ্জনার সাথে বিবাহ আয়োজিত হয়েছিল সূর্যদেবের। কিন্তু সূর্যের প্রচণ্ড তাপে বিয়ের রাতেই ঝলসে যান তিনি। এরপর তার নাম পরিবর্তিত হয়ে যায় সন্ধ্যায়। এই সন্ধ্যা নিজের স্বামীর প্রতি আক্রোশ নিয়ে বাপের বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য মনস্থির করেন। কোন উপায় না থাকায় নিজের মতন দেখতে একজন মহিলা সৃষ্টি করে তার নাম দেন ছায়া। এরপর হঠাৎ করেই ছায়া এবং সূর্যের পুত্র শনিদেবের জন্ম হয়। শনিদেবের জন্মের খবর পেয়ে বেশ আশ্চর্য হয়ে ওঠেন বিশ্বকর্মা। কারন তখনও তিনি জানতেন না তার মেয়ে কি ঘটনা ঘটিয়ে এসেছে।

এমতাবস্থায় বিশ্বকর্মা সব সত্যি জানার পর নিজের মেয়ে সন্ধ্যাকে সূর্যদেবের কাছে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পিতার কাছে তিরস্কৃত হয় সন্ধ্যা স্বামীর বাড়িতে গিয়ে ছায়াকে মেরে ফেলেন। ছায়ার পুত্র হিসেবে শনিদেবকে একেবারেই পছন্দ করতেন না সন্ধ্যা। এরপর হঠাৎ করেই সন্ধ্যা যম ও যমুনা নামে দুই সন্তানের জন্ম দেন। বড় হওয়ার পর ধর্ম রক্ষা করার দায়িত্ব পান যমরাজ। নদী হিসেবে পৃথিবীর সমস্ত পাপ ধুয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় যমুনাকে। কিন্তু শনিদেবকে সব কিছু থেকেই বঞ্চিত করে দেওয়া হয়। এমতাবস্থায় আর কোন উপায় না দেখে সন্ধ্যার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শনিদেব। একদিন ক্রোধের অন্ধকারে সন্ধ্যাকে লাথি মেরে দেন তিনি।

এ ঘটনায় সৎ ছেলের প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন সন্ধ্যা। অত্যন্ত রাগে অন্ধ হয়ে শনিকে খোড়া হয়ে যাওয়ার অভিশাপ দেন তিনি। ছেলের প্রতি মায়ের এমন অভিশাপের কথা শোনার পর অত্যন্ত সন্দেহ হয় সূর্যদেবের। পরবর্তীতে সন্ধ্যাকে প্রশ্ন করে তিনি পূর্ববর্তী সব ঘটনা জানতে পারেন। এরপর নিজের প্রতি আক্ষেপ করে শনিকে সৌরমণ্ডলের কর্মফলের গ্রহ হিসেবে স্থান দেন সূর্যদেব।

প্রসঙ্গত সেই সময় থেকেই মানুষের প্রতিটি কর্মের ফল নির্ধারণ করে আসছেন শনিদেব। এখনো পর্যন্ত এই পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই যিনি নিজের কর্মফল পাননি শনিদেবের কাছ থেকে। তাই সবসময় বলা হয় খারাপ কাজ করলে কখনোই শনির প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। তাই সব সময় কোন কর্ম করার আগে অবশ্যই নিজের কর্মফলের চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।