নিউজ

“দেশকে বাঁচিয়েছি, কিন্তু আমার দেশ আমার ছেলেটাকে বাঁচাতে পারলো না”- কান্নায় ভেঙে পড়ে বললেন কার্গিল যুদ্ধের নায়ক।

নিজস্ব প্রতিবেদন: কমাগত মানুষ চোখের সামনে দেখছে শুধু মৃত্যু আর মৃত্যু। সারাদেশ টা যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের করোনার ধাক্কা আরো বেশি ভয়াবহ ভাবে আছড়ে পড়েছে ভারতের মাটিতে । প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের এবং মৃত্যুর সংখ্যা। শ্মশান গুলিতে মৃতদেহ দাহ করার মতো যথেষ্ট জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। অক্সিজেনের অভাবে তিলে তিলে মারা যাচ্ছেন বহু মানুষ।

‌ এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসতে সাহস পাচ্ছেন না কেউই। প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। চোখের জলে প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাচ্ছেন বহু মানুষ। অনেক মৃতদেহের সাথে আবার নেই তাঁদের পরিজনেরা। বেওয়ারিশ লাশ হয়ে পুড়ে যাচ্ছে সেইসব মৃতদেহ গুলো।একটি মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে উত্তরপ্রদেশে। উত্তরপ্রদেশেও বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক তরুণ।

আরও পড়ুন-“জুলাই আগস্টেই আসতে চলেছে করোনার তৃতীয় ঢেউ”- বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তাঁর পিতা কার্গিল যুদ্ধের নায়ক হরিরাম দুবে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেছেন, “দেশকে বাঁচিয়েছিলাম, কিন্তু দেশ আমার ছেলেটাকে বাঁচাতে পারলো না।”প্রিয় পুত্রের মৃত্যুতে তিনি দায়ী করেছেন রাজ্যের তথা দেশের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে। তিনি কান্নাভেজা কন্ঠে বলেছেন ছেলের মৃতদেহ টুকু দেখার জন্য তাঁকে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।হরিরাম বলেছেন, “আমি ১৯৮১ সাল থেকে টানা ২০১১ সাল‌ পর্যন্ত ভারত মায়ের সেবা করেছি। কারগিল যুদ্ধে লড়াই করেছি।

শত্রুপক্ষের বন্ধুদের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে আমার দেশকে রক্ষা করেছি। কারগিল যুদ্ধে পাকিস্তানকে আমরা হারিয়েছি, দেশের মানুষ যাতে নিশ্চিন্তে নিদ্রা যেতে পারে তার জন্য আমরা নিজেদের জীবন লড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু দেশ আমার ছেলেটা কে বাঁচালো না। দেশের বেহাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা আমার ছেলে অমিতাভ কে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল। যে দেশকে আমি রক্ষা করেছি শত্রুর হাত থেকে সেই দেশে আমার ছেলের মৃতদেহ দেখার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।”এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হতেই চোখের জল বাঁধ মানেনি নেটিজেনদের।

Related Articles

Back to top button