“টাকা পয়সা চাইনা, আপনি দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করুন।”- মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কাতর আবেদন নিহত আনন্দ বর্মনের দাদুর

“টাকা পয়সা চাইনা, আপনি দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করুন।”- মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কাতর আবেদন নিহত আনন্দ বর্মনের দাদুর

নিজস্ব প্রতিবেদন: কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ঝরে গিয়েছে চারটি তরতাজা প্রাণ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগে আত্মরক্ষার্থে তাদের উপর গুলি চালিয়েছে বাহিনী। ‌ কোচবিহারের এসপি জানিয়েছেন, “প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর স্থানীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করতে এসেছিল, তাই নিরাপত্তার স্বার্থে গুলি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোচবিহারের এই শীতলকুচি কান্ড নাড়িয়ে দিয়েছে বাংলার রাজনীতি।

আজ শীতলকুচির মাথাভাঙায় মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কাণ্ডের পরেই তৃণমূল এবং বিজেপির দ্বৈরথ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে । শীতলকুচি নিয়ে মন্তব্য করে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর জনসভা ২৪ ঘন্টার জন্য নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলো নির্বাচন কমিশন। এর পাশাপাশি শোকজের নোটিশ পাঠানো হয়েছে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, অনুব্রত মণ্ডল এবং রাহুল সিনহা কে।

আরও পড়ুন-“দোষী ব্যক্তিরা যতই প্রভাবশালী হোক ভোটের পর শাস্তি পাবেই”- শীতলকুচির স্মরণসভায় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

রাহুল সিনহার জনসভায় ৪৮ ঘন্টার নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে নির্বাচন কমিশন।আজ শীতলকুচিতে নিহতদের পরিবারের সাথে দেখা করে তাদের কে সমবেদনা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে আনন্দ বর্মনের পরিবার মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য নিতে রাজি না হলেও তারপরে আনন্দ বর্মনের দাদু দেখা করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর সাথে।

রাজবংশী সম্প্রদায়ের ছেলে আনন্দ বর্মনের দাদু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে কাতর স্বরে অনুরোধ করেছেন , “আমি টাকা পয়সা চাইনা, দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করুন।” মুখ্যমন্ত্রী উনাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি খুব শীঘ্রই ভোট মিটে যাওয়ার পর দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ওই জায়গায় একটি শহীদ বেদী গড়ে তুলবেন তিনি যাঁর উদ্বোধন করবেন তিনি নিজের হাতে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “ভোট মিটে যাওয়ার পর দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি হবেই, সে যত বড়ই প্রভাবশালী হোক না কেন তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। ভোট মিটে যাওয়ার পর সবার আগে আমি আপনাদের কাছে আসবো।”