“প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার কতটা নিষ্ঠুর এবং অমানবিক তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে।”- আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় কে কর্মীবর্গ দপ্তরের চিঠি প্রসঙ্গে বললেন সৌগত রায়

“প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার কতটা নিষ্ঠুর এবং অমানবিক তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে।”- আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় কে কর্মীবর্গ দপ্তরের চিঠি প্রসঙ্গে বললেন সৌগত রায়

নিজস্ব প্রতিবেদন: আবার আলাপন ইস্যুতে যথেষ্ট সরগরম রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে আবার চরমে উঠলো কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত। গত মে মাসের ২৭ তারিখে প্রধানমন্ত্রী বাংলা এবং ওড়িশার ইয়াস বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন। কলাইকুন্ডায় মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু ওই বৈঠকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকার দরুন মুখ্যমন্ত্রী ওই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেননি।

এর সাথে যুক্ত হন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।তৎকালীন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকে উপস্থিত না হয় তাঁর পদের অমর্যাদা করেছেন এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ তোলে কেন্দ্রীয় সরকার যার দরুন তাঁকে শোকজ নোটিশ পাঠায় কেন্দ্র।তিন দিনের মধ্যে এই নোটিশের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র। তারপরেই ই’মেইল করে কেন্দ্রের শোকজের জবাব দিয়েছিলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন-“বিয়ে নিয়ে সম্পূর্ণ ভুল তথ্য দিয়েছে নুসরত।”- স্পীকারকে চিঠি দিয়ে বললেন বিজেপি সাংসদ।

তিনি কেন্দ্রীয় পদ থেকে রিটায়ার নিয়েছেন। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে তাঁর মুখ্য উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করেছেন।এবার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় কে আবার শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ দপ্তর। তাঁকে জানানো হয়েছে যে , অল ইন্ডিয়া সার্ভিস রুলের ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তিনি যদি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই চিঠির উত্তর না দেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবে কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ দপ্তর। তাঁর রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটের উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ দপ্তর।এবার আলাপন ইস্যুতে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা সৌগত রায়। তিনি সোচ্চার কন্ঠে বলেছেন, “নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার কতটা নিষ্ঠুর এবং অমানবিক তা এই সিদ্ধান্তে পরিষ্কার ।

আরও পড়ুন-আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া চিঠি দিলো কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীবর্গ ও প্রশিক্ষণ বিভাগ।

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এর এই সদ্য মাতৃবিয়োগ হয়েছে । নির্বাচনের আগেই তাঁর ভাই মারা গিয়েছেন। এইসময়েই তাঁকে কেন্দ্র কড়া চিঠি পাঠিয়েছে। উনি দিল্লিতে না গিয়ে সরাসরি অবসর নিয়ে নিয়েছেন।

তাই এখন সার্ভিস কন্ডাক্ট রুল অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকার কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারবে না। ওরা শুধুমাত্র অবসরের পর যে গ্র্যাচুইটি, পেনশন থাকে সেগুলো নিয়ে টানাটানি করতে পারবে। এইরকম কঠোর মনোভাব দেখানো মানে নির্বুদ্ধিতা। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় আর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী নন।

বিজেপি মানুষকে এইভাবেই ভয় দেখিয়ে মনোবল ভেঙে দিতে চাইছে। বাংলার মানুষ একজন বাঙালি অফিসারের এমন অপমানের সঠিক সময়ে জবাব দেবেন।”