‘শীতলকুচিতে কী হয়েছে দেখেছেন তো?বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে’;বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপের!

‘শীতলকুচিতে কী হয়েছে দেখেছেন তো?বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে’;বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপের!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-প্রথম তিন দফা নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হলেও চতুর্থ দফার নির্বাচনে মারাত্মক রকমের হিংস্র ঘটনার মুখোমুখি থাকলো বঙ্গ রাজনীতি। প্রসঙ্গত গতকাল কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকার মাথাভাঙ্গার জোরপাটকিতে হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাথে গ্রামবাসীদের বচসা শুরু হলে বাহিনীর জওয়ানরা গুলি চালাতে বাধ্য হন। এমতাবস্থায় হঠাৎ করেই কেরল থেকে বাংলায় ভোট দিতে আসা চার যুবকের গুলির আঘাতে মৃত্যু ঘটে। গ্রামবাসীদের দাবি, হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।

যদিও বাহিনীর তরফে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে প্রায় ৩০০—৪০০ জন বাসিন্দা একসাথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একে অপরকে ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত করতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপি। একদিকে যেমন গেরুয়া শিবিরের দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে, অপরদিকে তৃণমূল নেত্রীর দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালিয়েছে।এ পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে আজ সকালে প্রচার কাজে বেরিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বসলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

আরও পড়ুন-শীতলকুচিতে মৃত যুবকদের দুষ্টু ছেলে বলে উল্লেখ করে কটাক্ষের মুখে পড়লেন দিলীপ ঘোষ!

দিলীপ ঘোষ বলেন,”এত দুষ্টু ছেলে কোথা থেকে এল? ওই দুষ্টু ছেলেরা থাকবে না বাংলায়। সবে শুরু হয়েছে, এটা সারা বাংলায় হবে। যাঁরা ভেবেছেন বাহিনী বন্দুকটা দেখানোর জন্য এনেছে, (তাঁদের বলি) বাহিনী শুধু বন্দুকটা দেখাতে আসেনি। কেউ যদি আইন হাতে নিতে আসে তাঁকে যোগ্য জবাব দিতে হবে।১৭ তারিখে ভোট দিতে যান, বাহিনী থাকবে।

ভোট দিতে না পারলে আমরা আছি। শীতলকুচিতে কী হয়েছে দেখেছেন তো? বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে”।ওই এলাকায় আগামী ৭২ ঘণ্টা যে কোনও রাজনৈতিক নেতার প্রবেশ নিষেধ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই বিধিতে পড়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীও।এই পরিস্থিতিতে আজ রবিবার সকালে নিহতদের পরিবারের সাথে ভিডিও কলের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় তাকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সাংবাদিক বৈঠকে মমতা জানিয়েছেন,শীতলকুচি কাণ্ডে নিহতদের পরিবারের সমস্ত দায়ভার গ্রহণ করবেন তিনি।এবার প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য সামনে আসার পর রাজ্যে বিজেপির ভোটব্যাংকে কতটা প্রভাব পড়বে!