নিউজপলিটিক্স

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কি পেরেছেন দেশের প্রকৃত নেতা হয়ে উঠতে? প্রশ্ন দেশের বহু মানুষের।

নিজস্ব প্রতিবেদন: তীব্র সন্ত্রাস চালাচ্ছে করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসের প্রভাবে সারা দেশজুড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অসংখ্য মানুষ জন। দিনদিন লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। অনেক রাজ্যেই দেখা গিয়েছে বেহাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা। সারা ভারতজুড়ে দেখা গিয়েছে অক্সিজেনের অপ্রতুলতা। ভারতের এই বেহাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা কে ঘিরে অনেকেই দায় চাপিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপরে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছেন যে তিনি পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন চাইলেও প্রধানমন্ত্রী তার চিঠির কোনো উত্তর দেননি।

একুশের ভোটে বাংলার মাটিতে বারবার ছুটে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী সহ বিজেপির তাবড় তাবড় নেতা মন্ত্রীরা। কোভিড যখন দ্বিতীয়বার ছড়াতে শুরু করেছে তখন রাজনৈতিক প্রচারে নিয়ন্ত্রণ আইনে একের পর এক জনসভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওই জনসভা গুলিতে কাতারে কাতারে ভিড় করেছে মানুষজন, ওই ভিড়ের মধ্যে কখনোই সম্ভব হয়না দূরত্ব বৃদ্ধি বজায় রাখার। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে ভোটের এই আবহে নির্বাচন স্থগিত করে দেওয়া অবশ্যই উচিত ছিল বৃহত্তর জনস্বার্থে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের উপর প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছেন অনেকেই।

বিজেপির স্টার প্রচারক হিসেবে বারবার বাংলার মাটিতে ছুটে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী ইতিহাসে এই প্রথম বার। কিন্তু করোনার এই অতিমারীতে ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন বিচক্ষণ এবং দায়িত্ববান প্রশাসকের প্রয়োজন ছিল ভারতবাসীর কাছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই প্রশাসকের ভূমিকাটা কি সত্যিই পালন করতে পেরেছেন? একজন নেতা নেতৃত্ব দেন তার কথা শোনেন আপামর দেশবাসী। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যতটা গুরুত্ব দেশের এই ভয়াবহ আবহের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া উচিত ছিল, ততটা গুরুত্ব তিনি সম্পূর্ণ বাংলার একুশের এর ভোটে উৎসর্গ করেছেন। প্রথম পর্যায়ের পর যতটা শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল এই মহামারীর আবহে ততটা শিক্ষা নেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন-প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফা চাওয়ার কয়েক হাজার পোস্ট আটকে দিলো ফেসবুক। পরে ফেসবুক দাবি করল ঘটনাটি ভুলবশত ঘটেছে।

অনেকেই বলছেন শুধুমাত্র সংসদ ভবনের নির্মাণ, সর্দার প্যাটেলের মূর্তি বানিয়ে কখনো একজন দক্ষ প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায় না। দক্ষ প্রধানমন্ত্রী তখনই হওয়া যায় যখন দেশের মানুষের স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের উন্নতির জোয়ার আসে। প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য তখনই যখন দেশে গড়ে উঠবে বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল কলেজ বড় বড় হাসপাতাল ল্যাবরেটরি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সমস্ত কিছু অন্যদিকে রেখে মেতে উঠেছেন বাংলার ২১ এর ভোটে। দাঁতে দাঁত চেপে তিনি লড়াই করছেন তৃণমূলের কাছ থেকে বাংলার রাজনৈতিক ছিনিয়ে আনার জন্য।

কিন্তু এই সময়টা বড়ই দুরূহ সময়। চারিদিকে মৃত্যুর পরিবেশ। এই সময় দরকার সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার যেটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে অভাব বোধ করছেন অনেকেই । শুধুমাত্র সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়ে ধর্মের কথা বলে ভারতের শ্রেষ্ঠত্বের কথা শুনিয়ে মানুষের মনে জায়গা পাওয়া যায়না। মানুষ দেখে এটাই যে সমগ্র জাতির বৃহত্তর স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী কিভাবে কাজ করছেন। ‌

অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন যে প্রথম পর্যায়ের থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য শিক্ষা নেননি প্রধানমন্ত্রী। ‌ উপরন্তু কোভিডের বিরুদ্ধে আগেই তিনি যুদ্ধ জয়ের কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন। বর্তমানে ফেসবুক এবং টুইটারে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে বহু মানুষ দাবি জানিয়েছেন। এমনকি টুইটারে এবং ফেসবুকে #রিজাইন নরেন্দ্র মোদী নামক ট্রেন্ডিং শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে একটু ধৈর্য ধরে থাকতে হবে সকলকে, সকলকে মাস্ক এবং স্যানিটাইজার এর ব্যবহার করতে হবে।

Related Articles

Back to top button