পাচার হয়ে যাওয়া শিশু থেকে ডাক্তার, কেওবা ভিক্ষুক থেকে ইঞ্জিনিয়ার! এই দম্পতির কাহিনী শুনলে স্যালুট জানাবেন!

মানুষ পৃথিবীর সবথেকে উন্নত প্রজাতি। আজ মানুষ সৃষ্টির ঊষাকাল থেকেই তার কর্মদক্ষতা এবং বুদ্ধির সাহায্যে পৃথিবীর সবথেকে উন্নত প্রজাতি হ‌ওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছে। মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব বোধ থাকলেই তবে সে প্রকৃত মানুষ। বড়ো বড়ো ডিগ্রি নিয়ে অনেক সুনাম অর্জন করেও কিন্তু প্রকৃত মানুষ হ‌ওয়া যায়না।

যেমন বিভিন্ন মনীষী, শ্রীরামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, গৌতম বুদ্ধ, প্রমুখেরা বিলাস বৈভবের জীবন ত্যাগ করে দেশের মানুষের তথা সমস্ত জীবজগতের কল্যাণ কামনায় তাদের পাশে দাড়িয়েছিলেন। তাঁরাও ছিলেন প্রকৃত মানুষ। তাই একজন মানুষের উচিৎ সমস্ত জীবজগতের গুরুত্ব কে সম্মান জানানো। একজন মানুষের উচিৎ অসহায়ের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়ানো।

আরও পড়ুন – বদলে গেলো গ্যাস বুকিং এর নিয়ম, এবার চালু হচ্ছে OTP , এছাড়াও বদলাচ্ছে বেশ কিছু নিয়ম

সে মানুষ‌ই হোক না কেন আর পশুপাখিই হোক না কেন। মানুষের মানুষকেও যেমন সাহায্য করা উচিৎ তেমনি জীবজগতের পশুপাখিদের ও সাহায্য করা মানুষের একটি মানবিক ধর্ম। স্বামী বিবেকানন্দ বলে গিয়েছিলেন, “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।” এই কথাটির অন্তর্নিহিত অর্থ সকলেই জানেন। জীবের প্রতি প্রেম প্রতিটি মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা উচিৎ।

আরও পড়ুন – বাথটবে শুয়ে লাস্যময়ী নুসরত, মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই লুকের ছবি, রইলো সেই ছবি!

মানুষের উচিৎ প্রত্যেক অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এবার এরকমই মানবিকতার নজির স্থাপন করেছেন এক দম্পতি। চেন্নাইয়ের এই দম্পতির ছত্রছায়ায় মানুষ হচ্ছে হাজার হাজার অনাথ পথশিশু। পথশিশুদের মধ্যে কেউ ভিক্ষুক, কেউ শিশু শ্রমিক। এই সমস্ত দরিদ্র শিশুদের কাছে এই দম্পতি দেবতুল্য। তাঁদের কাছে মানুষ হ‌ওয়া অনাথ শিশু জয়াভেল বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত।

আরও পড়ুন – মার্চ মাস থেকে আকাশছোঁয়া বিক্রি বেড়েছে ক’নড’ম, সে’ক্স টয় থেকে শুরু করে গ’র্ভ নিরোধক পিলের!

বহু শিশুকে এই দম্পতি পাচার হ‌ওয়ার হাত থেকে উদ্ধার করেছেন। তাঁদের সৃষ্ট সিরাগু মন্টেসরি স্কুলে বর্তমানে প্রায় ৩০০০ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনায় রত। তাঁরা এই দরিদ্র অসহায় শিশুদের কাছে ভগবানের‌ই প্রতিরূপ। এই মানবিক দম্পতি হলেন চেন্নাইয়ের উমা এবং মুথুরাম। জয়াভেলের মতোই হাজার হাজার অনাথ পথশিশুদের আশ্রয় দিয়ে তাদের শিক্ষা দিয়ে, খাবার দিয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখাচ্ছেন এই ভগবান স্বরূপ দম্পতি।

এই দম্পতি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন সুয়াম চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট। তাঁদের হাত ধরেই আজ অনাথ পথশিশুদের অনেকেই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা আরো অন্যান্য পেশায় যুক্ত হয়ে মাথা উঁচু করে এগিয়ে চলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দম্পতির খবর প্রকাশিত হ‌ওয়া মাত্র‌ই দেশের জনগণ সশ্রদ্ধ প্রণাম জানিয়েছেন এই দম্পতিকে। সত্যিই তারা ইশ্বরের প্রতিরূপ।

এখানে আপনার মতামত জানান