বাবা প্রাক্তন আবগারি অফিসার। কোভিডের ভুয়ো ভ্যাকসিনের ক্যাম্প চালানো দেবাঞ্জন নিজেকে আইএএস অফিসার বলে পরিচয় দিতো।

বাবা প্রাক্তন আবগারি অফিসার। কোভিডের ভুয়ো ভ্যাকসিনের ক্যাম্প চালানো দেবাঞ্জন নিজেকে আইএএস অফিসার বলে পরিচয় দিতো।

নিজস্ব প্রতিবেদন: গত মঙ্গলবার মিমি চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে যাদবপুর কেন্দ্রের কসবায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের দেওয়া হয়েছিলো করোনার ভ্যাকসিন, সেখানেই মিমিও করোনার প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন। এই কেন্দ্রে শুধুমাত্র তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা ছাড়াও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষেরাও ভ্যাকসিন নিয়েছেন। কিন্তু এখানে ভ্যাকসিন নিয়েই খটকা লাগে মিমির। কসবার ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডে এই শিবিরে ভ্যাকসিন নিলেও মিমির ফোনে কোনো মেসেজ আসেনি।

এই ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন মিমি চক্রবর্তী। ‌ তারপরেই ওই ক্যাম্পের আয়োজক দেবাঞ্জন দেবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে ওই ব্যক্তি নিজেকে আইএএস দাবি করে কলকাতা পুরসভার যুগ্ম কমিশনারের পদ ব্যবহার করে তাঁর স‌ই জাল করে কেএমসির নামে নকল ক্যাম্প চালাচ্ছিলেন । এছাড়াও পুরসভার লোগো দেওয়া মাস্ক-স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হয়েছিল এই ক্যাম্পে।

আরও পড়ুন-কসবা ভ্যাকসিন কান্ডে ভুয়ো আইএএসের প্রসঙ্গে কি বললেন ফিরহাদ হাকিম?

ধৃত দেবাঞ্জনের পারিবারিক ইতিহাস জেনে রীতিমতো অবাক হয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা। দেবাঞ্জনের বাবা একজন প্রাক্তন আবগারি দপ্তরের অফিসার। সে নাকি তার বাবাকে জানিয়েছিলো যে সে আইএএস অফিসার হয়ে গিয়েছে। সারাদিন দেবাঞ্জন একটা লালবাতি লাগানো গাড়িতে চড়ে ঘুরতো।

আবার প্রাক্তন এক বিএস‌এফ জ‌ওয়ানকে সে তার দেহরক্ষী হিসাবেও নিযুক্ত করে রেখেছিলো। কেন সে নিজের পকেট থেকে খরচ করে এই ক্যাম্প চালাচ্ছিলো, সেই বিষয়ে তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। দেবাঞ্জন এর প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন তাদের প্রথম থেকেই সন্দেহ হত কিন্তু দেবাঞ্জন এর বাবা মনোরঞ্জন বাবু প্রতিবেশীদের বলেছিলেন যে তার ছেলে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত, আবার তিনি বলেছিলেন যে দেবাঞ্জন নাকি শিশু চরিত্রে অভিনয় করতো। মাদুরদহের হোসেনপুরে বাবা এবং বোনকে নিয়ে থাকতো দেবাঞ্জন।

আরও পড়ুন-একশো দিনের কাজে আবার মিললো সাফল্য। ৪০ দিনে কর্মদিবস বেড়েছে প্রায় দশ গুণ

রীতিমতো একজন উচ্চপদস্থ সরকারি অফিসারের মতোই চলাফেরা ছিলো তাঁর। তার কাছে বেশ কয়েকজন কাজ করতো যাদের সে ২০ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দিতো। এই বিপুল টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে দেবাঞ্জনকে জেরা করছে পুলিশ।২৮ বছর বয়সী , জেনেটিক্সে এম‌এসসি মেধাবী এই যুবক কেন হঠাৎ এই রাস্তা বেছে নিলো তা অবাক করে দিয়েছে তদন্তকারী অফিসারদের।