নিউজ

“ক্ষমতার এত অহংকার প্রধানমন্ত্রীও দেখান না।”- ত্রিপুরার জেলাশাসক কে কটাক্ষ সোনু নিগমের

নিজস্ব প্রতিবেদন: সারা ভারতজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসের তাণ্ডবে দিনের পর দিন মারা যাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি রাজ্যে জারি হয়ে গিয়েছে লকডাউন। ত্রিপুরায় চলছে নৈশ কার্ফু। এই কার্ফু না মেনেই ত্রিপুরায় বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান চলছিলো। আর সেখানেই হাজির হয়েছিলেন ত্রিপুরার জেলা শাসক শৈলেশ‌ যাদব। রীতিমতো দোর্দণ্ডপ্রতাপ ভঙ্গিতে অভিযান চালিয়ে তিনি বন্ধ করে দিয়েছিলেন বিয়ে বাড়ি।

এর পাশাপাশি সাসপেন্ড করা হয় স্থানীয় থানার ওসিকে। তবে এই গোটা ঘটনার ভিডিওটি ভাইরাল‌ হতেই নেট দুনিয়ায় প্রবল সমালোচনার সূত্রপাত হয়। এরপরই ক্ষমা চান ওই জেলাশাসক।একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা গিয়েছে রাতের বেলা বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল ত্রিপুরার আগরতলার ওই বিয়েবাড়িতে। তখনই সেখানে পুলিশ বাহিনী নিয়ে হাজির হন পশ্চিম ত্রিপুরার জেলা শাসক শৈলেশ যাদব।

বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত ব্যক্তিদের তিনি সোজা বেরিয়ে যেতে বলেন, বাজনাদার দের বেরিয়ে যেতে বলেন। এমনকি পুরোহিতকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। ‌ তার পরেই তিনি গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেন বরকে। খাবার খেতে বসা মানুষজনকে তিনি বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ‌ বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত এক মহিলা তাকে অনুমতি পত্র দেখাতে গেলে তার অনুমতি পত্র তিনি ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে দেন। ‌ তিনি বলেন যে অনুমতি বিয়ের জন্য, নাইট কারফিউ অমান্য করে অনুষ্ঠান করার জন্য নয়। ‌ এরপরই উপস্থিত সমস্ত ব্যক্তিদের বেরিয়ে যেতে বলেন জেলাশাসক শৈলেশ যাদব ।

আরও পড়ুন-কলকাতায় এলো কোভিশিল্ডের আরো দশ লক্ষ ডোজ

কিন্তু এই ভিডিওটি সোশ্যাল-মিডিয়ায়-ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা প্রবল সমালোচনা করতে শুরু করে দেন। ‌ ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার চিঠি দেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কে। ‌ তারপরই কার্যত চাপের মুখে পড়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছেন ওই জেলাশাসক শৈলেশ যাদব। অনেকেই বলেছেন জেলাশাসক আইন রক্ষার নামে যথেষ্ট বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন।বলিউডের বিখ্যাত গায়ক সোনু নিগম‌ও যথেষ্ট ক্ষুব্ধ হয়েছেন ত্রিপুরার জেলা শাসকের এই ভূমিকায়।

তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেছেন, “ত্রিপুরার ডিএম এর একটি ভিডিও দেখলাম তিনি বিয়ে বাড়িতে ঢুকে আইন মানতে বলছেন সকলকে। কিন্তু ডি এম স্যার, এটা আপনার কথা বলার কি ভঙ্গিমা ? একজন মহিলাকে আপনি কথা না শুনি বলছেন এরেস্ট হার । এতটা অহংকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর‌ও নেই । কেউ যদি ভুল করে তাকে বোঝান। আপনি একটা বিয়ে বাড়িতে গিয়ে শিক্ষিত গুন্ডার মত ব্যবহার করেছেন। আপনার ক্ষমতার ভুল ব্যবহার করছেন। নিজের ক্ষমতা দিয়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করুন।”যদিও ত্রিপুরার ডিএম শৈলেশ যাদব এই ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

Related Articles

Back to top button