শীতলকুচিতে মৃত যুবকদের দুষ্টু ছেলে বলে উল্লেখ করে কটাক্ষের মুখে পড়লেন দিলীপ ঘোষ!

শীতলকুচিতে মৃত যুবকদের দুষ্টু ছেলে বলে উল্লেখ করে কটাক্ষের মুখে পড়লেন দিলীপ ঘোষ!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-গতকাল শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে যুবকদের মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যে রাজ্য রাজনীতিতে জোরকদমে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।এমতাবস্থায় এদিন রবিবার সকালে বরানগরের প্রচার সভা থেকে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। প্রসঙ্গত দিলীপ ঘোষের এই ধরনের বেফাঁস মন্তব্য নতুন নয়, এর আগেও বারংবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চাঁচাছোলা মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। এদিন সকালে বরানগরের প্রচারে এসে দিলীপ বাবু বলেন,”শীতলকুচিতে দুষ্টু ছেলেরা গুলি খেয়েছে।

এই দুষ্টু ছেলেরা থাকবে না বাংলায়।কেউ আইন হাতে নিলে এটা সারা বাংলায় হবে।১৭ তারিখও কেন্দ্রীয় বাহিনী বুথে থাকবে।কেউ বাড়াবাড়ি করলে, জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে”। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য সামনে আসার পর থেকেই কটাক্ষের মুখে পড়ে গিয়েছেন তিনি।রাজনীতির সাথে যোগসাজশ না থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে কিভাবে তিনি এই ধরনের মন্তব্য করতে পারেন তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সঙ্গে দিলীপ ঘোষ আরো বলেছেন,”সেন্ট্রাল ফোর্স হাতে বন্দুক নিয়ে ঘুরতে আসেনি। কেউ লাল চোখ দেখাতে পারবে না।

আরও পড়ুন-শীতলকুচি কাণ্ডে মৃতদের পরিবারের সমস্ত রকম আর্থিক দায়ভার বহন করবেন মমতা! রইল বিস্তারিত।

কেউ বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে”।দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন তৃণমূল নেতা সৌগত রায়। সৌগত বাবু জানান,”দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য অত্যন্ত অসংবেদনশীল। এতে বিজেপির মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে”। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেছেন,”দিলীপ ঘোষের কথার প্রতিক্রিয়া দেওয়া যায় না। এ ধরনের মন্তব্য করে আসলে বিভাজনের কৌশল নিয়েছেন। মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার বিষয়গুলি থেকে নজর ঘোরাতেই এ ধরনের কথাবার্তা দিলীপ ঘোষ বলছেন”।

প্রসঙ্গত শুধুমাত্র এটুকুই নয়, এদিন সকালে রীতিমতো মমতার প্রচার বন্ধ করার দাবি তোলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন,”উনি পাপ করছেন, অন্যায় করছেন। মানুষকে উস্কে দিচ্ছেন। প্রচার বন্ধ করে দেওয়া উচিত। মমতার বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত”।প্রসঙ্গত শুধুমাত্র দিলীপ ঘোষ নয় এই ঘটনায় আজ মুখ্যমন্ত্রীর উপর আজ আক্রমণ হেনেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শাহের দাবি,”মুখ্যমন্ত্রী হেরে যাবেন বুঝতে পেরেই এই ধরনের জঘন্য আচরণ করছেন। মমতা কখনোই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হতে দেবেন না।দুর্নীতি দিয়ে কখনো নির্বাচনে জেতা যায় না। দিদির যেনতেন প্রকারে রাজ্য অরাজকতা এবং হিংসা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন”।